Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ১ লক্ষ টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার ৭
Digital Arrest: পরবর্তীতে শ্যামাপদবাবু বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ১৯ জানুয়ারি তিনি বিষ্ণুপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ একটি সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

বাঁকুড়া: টেলিফোনে ডিজিট্যাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর কাছ থেকে দশ লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমে গুজরাট ও তেলেঙ্গানার পর এবার নাম জড়াল ওড়িশারও। প্রতারিতর কাছ থেকে প্রতারণার যে অর্থ প্রতারকেরা হাতিয়ে নিয়েছিল তা প্রথম জমা পড়েছিল ওড়িশারই এক ব্যক্তির ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই সূত্র ধরে কুলু পাটেল নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করল বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, ওড়িশার সুবর্ণপুর জেলার সাকমা এলাকায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে কুলু পটেলের সহযোগী অভিষিক্ত মেহের নামের অপর এক যুবককেও। প্রতারণার ঘটনায় ৩ রাজ্য থেকে মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি বিষ্ণুপুর শহরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী শ্যামাপদ মণ্ডলের কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন কল আসে। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই কাস্টমস আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দেয় বলে খবর। এরপর ফোনের ওপাড়ের ব্যক্তি শ্যামাপদবাবুকে জানান তাঁর নামে বেশ কিছু অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁকে ডিজিট্যালি অ্যারেস্ট করা হচ্ছে। এরপরই এই গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচার জন্য নির্দিষ্ট একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁকে ১০ লক্ষ ২১ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। পরের দিনই প্রতারকদের কথামতো ওই টাকা পাঠিয়ে দেন শ্যামাপদ মণ্ডল।
পরবর্তীতে শ্যামাপদবাবু বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ১৯ জানুয়ারি তিনি বিষ্ণুপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ একটি সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। টাকা পাঠানো ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে গুজরাট ও তেলাঙ্গানা থেকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত একের পর এক মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সূত্র কাজে লাগিয়ে এবার ওড়িশার সুবর্নপুর জেলার সাকমায় হাজির হয় তদন্তকারীরা।
সেখান থেকে কুলু ও অভিষিক্ত মেহের নামের দুজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে পুলিশ। ধৃতদের আজ বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে প্রতারিত যে অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ ২১ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন সেই অ্যাকাউন্ট কুলুর নামে ছিল। টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হতেই দ্রুততার সঙ্গে কুলু তা বিভিন্ন জনের নামে থাকা অপর তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে দেয়। অভিযুক্তকে এ কাজে সাহায্য করেছে অভিষিক্ত মেহের।

