Bankura: বাইকে সঙ্গীকে নিয়ে ফিরছিলেন নদীর ধার দিয়ে, আচমকাই নদী থেকে উঠে আসে সে… সঙ্গীর সামনে একেবারে পিষেই শেষ করে দিল
Elephant Attack in Bankura: গতকাল রাত প্রায় ৮টা নাগাদ বরেন তুং এক সঙ্গীকে নিয়ে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় বেলুট এলাকায় শালি নদী থেকে একটি হাতি রাস্তায় উঠছিল। আচমকাই হাতির সামনে পড়ে যান ওই দুই বাইক আরোহী। এরপর হাতিটি বরেনের উপরে হামলা চালায়। হাতির আক্রমণে গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা সঙ্গী কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

বাঁকুড়া: রাত তখন আটটা-সাড়ে আটটা। জঙ্গল ঘেরা নদীর ধারের রাস্তা দিয়ে তখন ওতো রাতে আর সেভাবে কেউ ফেরে না। রাস্তা ফাঁকা। হু হু করে ছুটছিল বাইক। আচমকাই নদী থেকে উঠে এসে রাস্তায় হাজির সে। একেবারে বাইকের সামনে। চালক ততক্ষণে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। বাইক ডায়ে-বাঁয়ে করতে করতে গিয়ে পড়ে যায়। বাইকের পিছনে তখন ছুটছে সে। রাস্তায় বাইক পড়তেই আরোহী পিছন থেকে ছুট লাগাতে শুরু করেন। চালকের ওপর বাইক পড়েছিল, তাই তা সরিয়ে এগোতে সময় লেগে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ! একেবারে পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু। হাতির হানায় মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ের। রাতে বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের বেলুট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম বরেন তুং (৬৭)। তাঁর বাড়ি বেলিয়াতোড়ের বাঁকুড়ারডাঙা এলাকায়। এই ঘটনায় তাঁর বাইকের সঙ্গী প্রাণে বাঁচলেও মৃত্যু হয়েছে বরেনের।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাত প্রায় ৮টা নাগাদ বরেন তুং এক সঙ্গীকে নিয়ে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় বেলুট এলাকায় শালি নদী থেকে একটি হাতি রাস্তায় উঠছিল। আচমকাই হাতির সামনে পড়ে যান ওই দুই বাইক আরোহী। এরপর হাতিটি বরেনের উপরে হামলা চালায়। হাতির আক্রমণে গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা সঙ্গী কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেলুট-সহ আশপাশের গ্রামের মানুষজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে আহত বরেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর হাতির গতিবিধি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এলাকায় হাতির চলাচলের উপরে বন দফতরের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, হাতির চলাচলের রাস্তায় আগাম সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
