AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Tulu Mondal: দিনমজুর থেকে বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ টুলু কয়েকশো কোটির মালিক, কীভাবে উত্থান, মাথায় রয়েছে কার ‘হাত’? জানলে চমকে যাবেন

Birbhum Tulu Mondal News: দেউচায় টুলুর পার্কিং লটের ছাপাখানায় তৈরি হত জাল ডিসিআর। ১০০ সিএফটি পাথরের রাজস্ব ৪০০ টাকা। ১০ থেকে ১২ চাকার লরির রাজস্ব পড়ত ১৬০০ টাকা। কিন্তু নেওয়া হত আট থেকে দশ হাজার টাকা। বাড়তি নেওয়া টাকার পুরোটাই যেত টুলুর কাছে। অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে যখন মোটা টাকার শুল্ক জমা পড়ার কথা, তখন টুলুর কেরামতিতে তার যৎসামান্য জমা পড়ত। অভিযোগ, তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ওই টাকার ভাগ পেতেন।

Tulu Mondal: দিনমজুর থেকে বীরভূমের 'পাথর সম্রাট' টুলু কয়েকশো কোটির মালিক, কীভাবে উত্থান, মাথায় রয়েছে কার 'হাত'? জানলে চমকে যাবেন
টুলু মণ্ডলImage Credit: Tv9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jul 31, 2026 | 10:03 AM
Share

সিউড়ি: মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার। প্রায় তিরিশ ঘণ্টার তল্লাশি। বেরিয়ে এল তাল তাল সোনা, আর বান্ডিল বান্ডিল নোট। টাকার পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ। আর সোনা ১৫ কেজি। যদিও, সরকারি আইনজীবী বলছেন, এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। অর্থাৎ আরও কি সোনা ও টাকা রয়েছে? উঠছে প্রশ্ন। সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, একসময়ের বাসচালক মিনার মণ্ডলের বাড়িতে কীভাবে এত টাকা, সোনা এল? তদন্তের সূত্র ধরে উঠে এসেছে টুলু মণ্ডলের নাম। মিনারের শ্যালক টুলু। সূত্রের খবর, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে যোগ রয়েছে তাঁর। শুধু তাই নয়, টুলুর উল্কাগতিতে উত্থানের নেপথ্যে রয়েছেন নাকি কেষ্টই। দিন মজুরির কাজ করতে করতে কীভাবে বীরভূমের পাথর সম্রাট হয়ে উঠলেন?

টুলু মণ্ডলের উত্থান

২০০০ সালের আগে পাথর ভাঙার ক্রাশারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কিছুদিন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে এই ব্যবসার নাড়ি নক্ষত্র বুঝে নেন টুলু। পরে লরি ভাড়া নিয়ে ক্রাশার থেকে পাথরের ব্যবসা। ২০১০ সালে কিনে ফেলেন লরি। তারপর থেকে পুরো দমে পাথরের ব্যবসায় নেমে পড়েন। একে একে কয়েকশো লরির মালিক হয়ে ওঠেন টুলু মণ্ডল। লক্ষ্য ছিল আরও বড় হওয়ার। পাথর ব্যবসার সম্রাট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সূত্রের খবর,তারপর থেকেই অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেন।

সূত্রের খবর, তারপর পাথর বোঝাই লরি বেরোতে প্রয়োজন যে নথির অর্থাৎ ডুপলিকেট কার্বন রিসিট (DCR), তা জাল করা শুরু হয়। অভিযোগ, DCR দুর্নীতি করেই কয়েকশো কোটির মালিক হয়েছেন টুলু মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, ক্রাশার থেকে বেরোনো লরি ও সরকারি টোলগেটে টুলুর জাল ডিসিআর হয়ে ওঠে এই ব্যবসার মূল চাবিকাঠি। ক্রাশার থেকে বেরোনো লরিতে আসল ডিসিআর-এর জায়গায় ধরিয়ে দেওয়া হতো জাল DCR। শুধু পাথর নয়, পরবর্তীকালে তিনি বালি মাফিয়াও হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, মাথায় অনুব্রত মণ্ডলের হাত থাকায় টোল গেট দেখভালের দায়িত্ব ছিল টুলু মণ্ডলের হাতেই। লরিপ্রতি আট থেকে দশ হাজার টাকা শুল্ক টুলু মণ্ডলের টাকা অ্যাকাউন্টে যেতে শুরু করে।

জাল রসিদে কয়েকশো কোটির মালিক টুলু

দেউচায় টুলুর পার্কিং লটের ছাপাখানায় তৈরি হত জাল ডিসিআর। ১০০ সিএফটি পাথরের রাজস্ব ৪০০ টাকা। ১০ থেকে ১২ চাকার লরির রাজস্ব পড়ত ১৬০০ টাকা। কিন্তু নেওয়া হত আট থেকে দশ হাজার টাকা। বাড়তি নেওয়া টাকার পুরোটাই যেত টুলুর কাছে। অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে যখন মোটা টাকার শুল্ক জমা পড়ার কথা, তখন টুলুর কেরামতিতে তার যৎসামান্য জমা পড়ত। অভিযোগ, তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ওই টাকার ভাগ পেতেন।

যেহেতু এই টাকা নগদে নেওয়া হয়,তাই প্রত্যেকদিন বান্ডিল বান্ডিল টাকা টুলু মণ্ডল তাঁর ঘনিষ্ঠদের মারফত বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে রাখতেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঠিক সেভাবেই মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে মিলেছে টাকা। আরও অনেক ঘনিষ্ঠর বাড়িতে টাকা আছে বলে সন্দেহ পুলিশের।

টুলু মণ্ডলের সম্পত্তি

সিউড়ি সুভাষপল্লিতে টুলু মণ্ডলের চার তলা বাড়ি। যা যে কোনও নামিদামি রিসর্টকে হার মানায়। বাড়ির সামনেই পাঁচটি সিসিটিভি ক্যামেরা। রিমোট ও সুইচ দিয়ে খোলা হত লোহার গেট। ভিতরে বাগান। সুসজ্জিত পাকা উঠোন। বাড়ির গেটে কলিং বেল। বিদেশেও টুলুর ব্যবসা রয়েছে। ফ্ল্যাট রয়েছে। সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে যে সোনা উদ্ধার হয়েছে, তা দুবাই ও সুইজারল্যান্ড থেকেই এসছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পাথর, বালি পাচারের টাকা সোনায় বিনিয়োগ হত।

বেপাত্তা টুলু

বৃহস্পতিবারই টুলুর সিউড়ির বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিন্তু, ওই বাড়িতে ছিলেন না টুলু। বাড়িতে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম সোনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া, সোনা-রূপোর একাধিক সরঞ্জাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছে। তাঁর বাড়িও সিল করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, বিদেশেই পালিয়ে গিয়েছেন টুলু।

Follow Us