AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bomb Threat : RDX রয়েছে, এখনই উড়ে যাবে! আজ কোথায় কোথায় এল হুমকি মেইল?

Bomb Threat : জেলার একাধিক পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছে। কাটোয়া পোস্ট অফিসে বাংলায় এসেছে হুমকি মেইল। লেখা ছিল সাইনাইড গ্যাস মিশ্রিত rdx রাখা রয়েছে। বেলা ১২টা ১০ নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটবে বলে জানানো হয় মেইলে। বর্ধমান পোস্ট অফিস দপ্তর থেকে কাটোয়া পোস্ট অফিসে সতর্ক করে তা জানানো হয়।

Bomb Threat : RDX রয়েছে, এখনই উড়ে যাবে! আজ কোথায় কোথায় এল হুমকি মেইল?
বোমাতঙ্ক
| Updated on: Feb 27, 2026 | 5:25 PM
Share

কলকাতা : রাজ্যজুড়ে আজ ফের বোমাতঙ্ক। মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও বিভিন্ন জেলায় জেলায় সরকারি অফিসগুলিতে বোমা হুমকির খবর সামনে এসেছে। জেলাশাসক অফিস থেকে পোস্ট অফিস, পাসপোর্ট অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার ফের হুমকি ইমেইল আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে । এর আগে আদালতগুলি বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এসেছিল। রাজ্যে এই নিয়ে পরপর চারদিন বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটল।

কোথায় কোথায় আজ হুমকি ইমেল আসে?

হাওড়া

হাওড়ার জেলাশাসক অফিসে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন কর্মীরা। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। জেলাশাসকের অফিসের পাশাপাশি পোস্ট অফিস, পাসপোর্ট অফিসগুলিতেও এদিন ফের বোমাতঙ্কের খবর সামনে এসেছে। বোমা রাখার খবর জানিয়ে হুমকি ই-মেইল আসে হাওড়া-সহ একাধিক জেলায়।

আসানসোল

আসানসোল মেইন পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্ক। মেইলে পোস্ট অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড।

পূর্ব বর্ধমান

শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ একটি মেল করে জানানো হয়, ওই অফিসের ভিতর বোমা রয়েছে। যে কোনও সময় বিস্ফোরণ হতে পারে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কর্মীরা। তাঁরা অফিসে তালা ঝুলিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। গ্রাহকদেরও বার করে দেওয়া হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই ধরনের বোমাতঙ্কর খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এই পোস্ট অফিসে। তবে পুলিশি তল্লাশিতে কিছুই পাওয়া যায়নি বলে খবর।

কাটোয়া

আজও ফের বোমাতঙ্ক কাটোয়া পোস্ট অফিসে। বাংলায় এসেছে হুমকি মেইলে। লেখা ছিল সাইনাইড গ্যাস মিশ্রিত rdx রাখা রয়েছে। বেলা ১২টা ১০ নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটবে বলে জানানো হয় মেইলে।বর্ধমান পোস্ট অফিস দপ্তর থেকে কাটোয়া পোস্ট অফিসে সতর্ক করে তা জানানো হয়।

খড়গপুর

বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার ফের হুমকি মেল। এর জেরে খালি করে দেওয়া হয় খড়গপুর আই আইটি দপ্তরে থাকা পোস্ট অফিস । অফিসে পৌঁছেছে হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ। পোস্ট অফিসের ভিতরে থাকা সমস্ত কর্মীদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বসিরহাট

বসিরহাট হেড পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হেড পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্কর মেইল আসে।

কৃষ্ণনগর

নদীয়া জেলা কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসে সকাল সকাল হুমকি মেল। পোস্ট অফিসের মধ্যেই লুকিয়ে রাখা আছে বোমা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রাহক ও কর্মীদের বের করে গেটে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় পোস্ট অফিস।

হুগলি

হুগলি সদর পোস্ট অফিসে রয়েছে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র।সেখানে হুমকি মেল আসে।শ্রীরামপুর মহকুমা পোস্ট অফিসেও একই ঘটনা। পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের।

বনগাঁ

বনগাঁ পোস্ট অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। পোস্টমাস্টার জানিয়েছেন, বাংলায় একটি ইমেল এসেছে।সেখানে লেখা রয়েছে দুপুর ১২ টার ১০ নাগাদ পাসপোর্ট অফিসে বিস্ফোরণ ঘটবে। ১১ টার আগে সকলকে সরিয়ে নিন। যাকে কেন্দ্র করে ফের একবার আতঙ্ক ছড়াল পোস্ট অফিসের কর্মীদের মধ্যে।

এছাড়া কোচবিহার, বনগাঁ, চুঁচুড়াতেও বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল তল্লাশি করেও কোনও বোমা মেলেনি বলেই খবর পুলিশ সূত্রে। প্রথমে পোস্ট অফিসগুলি বন্ধ করে দেওয়া হলেও, পরে ধীরে ধীরে তা খুলে দেওয়া হয়।

গোটা ঘটনায় ভীত, সন্ত্রস্ত ও ক্ষুব্ধ কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। আবার অনেকের দাবি, এর পিছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। সত্যি কি ষড়যন্ত্র রয়েছে? এখানে একটি বিষয় উল্লেখের যে, সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের পর থেকেই জেলায় জেলায় বোমাতঙ্কের ঘটনার খবর সামনে আসছে। কী নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, বাংলায় নথি যাচাই ২৫০ জন বিচারকের নজরদারিতে হবে। তারপরই দেখা যায়, আদালতগুলিতে বোমাতঙ্কের খবর ছড়ায়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই আসানসোল, হুগলি, বহরমপুর, কাঁথি,বিচারকদের মেইলে এসেছিল বোমা হুমকি।তাতে লেখা, আদালতে রয়েছে বোমা।আদালতগুলিতে দেখা যায় বম্ব স্কোয়াডের চূড়ান্ত তৎপরতা। তল্লাশি চালায় ডগ স্কোয়াড। তবে শেষ পর্যন্ত কোথাও কিছুই মেলেনি। গোটা বিষয়টি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি আশ্বাস দিয়েছেন,  আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। বেশিরভাগ মেইলই দেখা গিয়েছে ভুয়ো। মেইল কে কী কারণে করেছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু, তারপরে চারদিন কেটে গেলেও কোনও সমাধান মেলেনি।