‘NCPI-তে যাওয়ার কথা আমরা জানতাম না’, বিস্ফোরক বসুনিয়া, পুজোর আগেই বড় সিদ্ধান্ত কাকলিদের?
NCPI to join BJP: ২০ জন সাংসদের সাংসদ পদ খারিজ করার আর্জি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাও করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁদের পদ খারিজ করার আর্জি জানানো হয়েছে কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে।

কোচবিহার: তৃণমূলের (Trinamool Congress) টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া। বর্তমানে তিনি এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। এবার, কমিশনে যখন তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীকের লড়াই চলছে, তখন বিস্ফোরক দাবি করলেন বসুনিয়া। বাংলায় এসে তিনি জানিয়ে দিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও বাধা নেই। পুজোর আগেই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে দাবি করলেন তিনি।
২০ জন সাংসদের সাংসদ পদ খারিজ করার আর্জি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাও করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁদের পদ খারিজ করার আর্জি জানানো হয়েছে কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে। এই আবহেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা বললেন সিতাইয়ের বিধায়ক।
কী বলছেন জগদীশ বসুনিয়া?
সম্প্রতি সাংসদ বলেছেন, “তিনজন যেহেতু সরাসরি বিজেপিতে যেতে চান না, তাই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করে বিজেপিই। আমরা এনসিপিআই-তে যাওয়ার কথা জানতাম না। এখন আমাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তিনজন সংখ্যালঘু থেকে যেতে চাইলেও আমরা বিজেপিতে যোগ দেব।” এ ক্ষেত্রে তিন সাংসদ অর্থাৎ খলিলুর রহমান, আবু তাহের ও ইউসুফ পাঠানের কথা বলেছেন তিনি। পুজোর আগেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এলাকায় গেলেও কোনও সভা-সমিতি আপাতত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বসুনিয়া। তিনি বলেন, “আমরা তো এখন এনসিপিআই-তে। কাকে নিয়ে সভা-সমিতি করব? আমি আপাতত সাংসদ অফিসে বসব বলে এসেছি।”
বসুনিয়ার কথার আদৌ রাজনৈতিক ভিত্তি আছে?
বিজেপি তো বারবার বলেছে, তৃণমূলিকরণ হলে না। এরই মধ্যে বসুনিয়ার বক্তব্য নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে, বসুনিয়ার কথার রাজনৈতিক ভিত্তি আছে? নাকি এলাকার কর্মীদের কোনও বার্তা দিতে চাইছেন তিনি? কারণ এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে জগদীশ বসুনিয়াকে। বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ সামনে এলেও এলাকার কর্মীরা তাঁকে গ্রহণ করছে না। সেই কারণেই কি এই বার্তা বসুনিয়ার? যোগাযোগ করা হলেও বিজেপি নেতারা এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করছেন না।
আরও একটি বিষয় হল, সুপ্রিম কোর্টে এনসিপিআই সাংসদদের নিয়ে মামলা চলছে। এছাড়া, খাতায়-কলমে তাঁরা এখনও তৃণমূল সাংসদ। এই অবস্থায় বিজেপিতে যোগ দিতে গেলে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের মুখে পড়তে হবে তাঁদের। এই প্রসঙ্গে আবু তাহের খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অন্য় ১৭ জনের দায়িত্ব, ১৭ জন নেবে। এরকম কোনও চুক্তি আমাদের সঙ্গে হয়নি। ১৭ জনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলুন।”
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সজল ঘোষ বলেন, “দল নির্দেশ দিলে মানতেই হবে। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে আমাদের পরনির্ভরশীল হতে হয়। জোট রাজনীতির কিছু বাধ্যবাধকতা আছে।”
