
শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে রাজবংশীদের মন জিতবে কারা? ভোটের বাংলায় উত্তরবঙ্গে এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীরা প্রচারে নেমে পড়েছেন। আর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন উত্তরবঙ্গ দিয়েই। রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকায় একাধিক সভা করবেন তিনি। এই আবহে রাজবংশীদের সমর্থন কাদের দিকে থাকবে, তা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের তরজা বাড়ছে।
উত্তরবঙ্গে বিধানসভা আসন ৫৪টি। তার মধ্যে ২২টি আসন রাজবংশী অধ্যুষিত। উনিশের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। এই বিধানসভা নির্বাচনেও উত্তরের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে মরিয়ে পদ্মশিবির। আবার রাজবংশীদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির।
মাসেকখানেক আগেই রাজ্য সরকার বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেয়। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সম্মান প্রদান করেন। অনন্ত মহারাজ রাজবংশী নেতা। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, অনন্ত মহারাজকে সম্মানিত করে রাজবংশীদেরই মন জয়ের চেষ্টা করেছে রাজ্যের শাসকদল।
উত্তরবঙ্গের আসনগুলিতে ভোট রয়েছে ২৩ এপ্রিল। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ মার্চ উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচার শুরু করবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তার সভার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে রাজবংশী অধ্যুষিত একাধিক আসন। ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) ময়নাগুড়িতে সভা করবেন তিনি। এছাড়াও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, আলিপুরদুয়ারে সভা রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তরবঙ্গে একাধিক সভা করবেন। আগামী ২৬ মার্চ দুপুরে কোচবিহারের নাটাবাড়িতে জনসভা করবেন। তারপর ওইদিনই জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে সভা করবেন এবং আলিপুরদুয়ারের কালচিনিকে রোড শো করবেন। আবার আগামী ৩১ মার্চ কোচবিহারের শীতলকুচি, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ এবং আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় সভা করবেন।
রাজবংশীরা এবার তৃণমূলকে সমর্থন করবেন বলে আশাবাদী শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। তিনি বলেন, “রাজবংশীদের উন্নয়নে একাধিক কাজ করেছে রাজ্য সরকার। রাজবংশীরা বুঝতে পারছেন তৃণমূল একমাত্র উন্নয়ন করতে পারে। এর আগে উপনির্বাচনে মানুষের জনমত বিজেপির বিপক্ষে গিয়েছে। এবার আমরা আশাবাদী। উত্তরের রাজবংশী ভোট এবার তৃণমূল পাবেই।”
যদিও শিলিগুড়ির বিজেপির প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “রাজবংশীরা আমাদের কাছে ভোটব্যাঙ্ক নয়। ওরা বঞ্চিত। এই সমাজ আমাদের পাশেই রয়েছে। এবারের ভোটেও রাজবংশী ভোট আমাদের কাছেই থাকবে। তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক, লাভ হবে না।”