Sugar Price Hike: ‘১০টাকার রসগোল্লা ২০টাকাতেও বেচলে মার্জিন প্রফিট! লোকে আদৌ কিনবে?’, চিনির দাম বাড়ায় শঙ্কায় মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও
Rising Sugar Prices: বাঙালির শেষ পাতে মিষ্টি বা অতিথি আপ্যায়নে মিষ্টির ভূমিকা চিরকালের। অথচ গত ১৫ দিনে চিনির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে যে চিনি কিলোগ্রাম প্রতি ৪৫ টাকায় মিলত, তা বর্তমানে গিয়ে ঠেকেছে ৬৮ টাকায়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রান্নার তেল ও গ্যাসের দাম।

বর্ধমান: সামনেই পুজোর মরসুম, তার আগেই খোলা বাজারে আকাশছোঁয়া চিনির দর। আর চিনির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মিষ্টির বাজারেও। ফলে উৎসবের দিনগুলোতে মিষ্টিমুখ করতে গিয়ে পকেটে টান পড়ার আশঙ্কায় চিন্তায় মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা।
বাঙালির শেষ পাতে মিষ্টি বা অতিথি আপ্যায়নে মিষ্টির ভূমিকা চিরকালের। অথচ গত ১৫ দিনে চিনির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে যে চিনি কিলোগ্রাম প্রতি ৪৫ টাকায় মিলত, তা বর্তমানে গিয়ে ঠেকেছে ৬৮ টাকায়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রান্নার তেল ও গ্যাসের দাম। ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক ব্যবসায়ী মিষ্টির দাম বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দর এক রেখে মিষ্টির আয়তন ছোট করে লোকসান সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, চিনির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। তবে এক ধাক্কায় দাম বেশি বাড়ালে বিক্রি কমে যাওয়ার এবং অনেক ছোট দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, একশ্রেণির মজুতদার অসাধু উপায়ে চিনি আটকে রেখে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের অবিলম্বে কড়া নজরদারি চালানো এবং চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করা উচিত বলে দাবি করছেন তাঁরা।
বর্ধমান সীতাভোগ ও মিহিদানা ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেবাদিত্য চক্রবর্তী বলেন, “ব্যবসা করাই যাবে না। প্রচুর ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। গত এক মাস ধরে যে দাম ছিল, কিন্তু এক সপ্তাহে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ৩০০ টাকা, ৪০০ টাকা কুইন্টালে বাড়ছে। এক-একটা গদিতে এক-একরকম। অর্থাৎ সব জায়গায় সমানভাবে বাড়ছে তা কিন্তু নয়। এটা একটা মনোপলির মতো হয়ে যাচ্ছে। মিষ্টির দাম আপনি কত বাড়াবেন, কাস্টোমারকে তো কিনতেও হবে।”
আরেক এক ব্যবসায়ী বললেন, “যেভাবে চিনির দাম বাড়ছে, তাতে মিষ্টির দাম বাড়াতেই হবে। কিন্তু একটা মিষ্টির দাম আর কতইবা বাড়াতে পারেন। ধরুন, একটা রসগোল্লার দাম ১০ টাকা ছিল, সেটা বাড়িতে আপনি কত করতে পারেন, ম্যাক্সিমাম ১৫ টাকা। কিন্তু যেভাবে চিনির দাম বাড়ছে, আজ যে রসগোল্লাটা ১০ টাকায় তৈরি করতাম, সেটা তৈরি করতে ২০ টাকা লাগবে। যদি প্রফিট মার্জিন রাখতে হয় তো!”
