Police Half Pant Model: পালাবদলের পরই শুরু অ্যাকশন, দুষ্কৃতীদের শায়েস্তা করতে পুলিশর হাফ-প্যান্ট মডেল
Half Pant Model in Bengal: ২৪ মে ২০২৬। রবিবার। উত্তর হাওড়ার রাস্তায় দেখা গেল হাফ-প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরে মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছে আকাশ সিং। তাঁকে ঘিরে রয়েছে কয়েজনজন পুলিশ কর্মী। ২৫ মে সোমবার। দেখা গেল রাস্তায় ঠিক একইভাবে ওই হাফ প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে কোমরের দড়ি বেঁধে ঘোরানো হচ্ছে ট্রাফিক হোমগার্ডকে।

হাওড়া: পরনে হাফপ্যান্ট। স্যান্ডো গেঞ্জি। কোমরে দড়ি বাঁধা। গরমে রোদ্দুরে হেঁটে চলেছেন রাস্তা দিয়ে। চারপাশে ঘিরে রয়েছে পুলিশ। বাংলার রাস্তাঘাটে এখন ঠিক এই ছবিটাই দেখা যাচ্ছে। উত্তর হাওড়া (North Howrah) হোক বা সাঁকরাইল (Sankrail)। পুলিশের অ্যাকশনে এখন রীতিমতো কেঁচো হয়ে গিয়েছেন একসময়ের ডন কিংবা তোলাবাজিতে অভিযুক্তরা। দিন কয়েক আগেও যাঁরা ছড়ি ঘোরাতেন, যাঁদের হুমকিতে কেঁপে উঠত এলাকা, পুলিশকে পর্যন্ত হুমকি দিতেন, সেই তাঁদেরই এখন হাফ প্যান্ট পরে ঘোরাচ্ছে পুলিশ। বিজেপি সরকারের আমলে পুলিশের এই রূপ কিন্তু একেবারে নতুন। গুণ্ডা, দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করতে ও সমাজে সব অপরাধীকে শায়েস্তা করতে এবার হাফ প্যান্ট মডেলকেই (Half Pant Model) হাতিয়ার করছেন তাঁরা।
আন্ডারওয়্যারে ‘গুণ্ডা’ আকাশ সিং
২৪ মে ২০২৬। রবিবার। উত্তর হাওড়ার রাস্তায় দেখা গেল হাফ-প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরে মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছে আকাশ সিং। তাঁকে ঘিরে রয়েছে কয়েজনজন পুলিশ কর্মী। আকাশ সিং আসলে একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতী। এলাকার ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ২০টিরও বেশি বোমাবাজি করা ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ তাঁকে আগেই গ্রেফতার করেছে। সমাজের অপরাধীদের কঠোর বার্তা দিতেই পরে আকাশকে মাথা ন্যাড়া করে গেঞ্জি ও আন্ডারওয়্যার পরিয়ে রাজপথে ঘোরানো হল।
সাঁকরাইলে হাফ প্যান্টে হোমগার্ড
উত্তর হাওড়ার পর সাঁকরাইল। ২৫ মে সোমবার। দেখা গেল রাস্তায় ঠিক একইভাবে ওই হাফ প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে কোমরের দড়ি বেঁধে ঘোরানো হচ্ছে ট্রাফিক হোমগার্ডকে। জানা গিয়েছে, সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়িক প্রিয়া পালের অতি ঘনিষ্ঠ এই হোমগার্ড। নাম শাহিন মোল্লা ওরফে সানি। তোলাবাজির অভিযোগে গত ২৩ মে তাঁকে গ্রেফতার করে সাঁকরাইল থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গতকাল তাঁকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আজ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং সাঁকরাইল থানার পুলিশ যৌথভাবে তাঁকে কোমরে দড়ি পরিয়ে সাঁকরাইলের বেলতলা থেকে শুরু করে নলপুর পর্যন্ত হাঁটানো হয়। পুলিশের এই দাবাং রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজ্যবাসী।
কী বলছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা?
এই বিষয়ে প্রাক্তন পুলিশকর্তা অরিন্দম আচার্য বলেন, “এই IPC,CRPC যাই বলেন, এগুলো ভারতীয় ন্যায় সংবিধানে একই আইন। এগুলো ঘুমিয়ে ছিল। প্রয়োগ করা হত না। আজ পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। নতুন সরকারের নীতি একটাই দুষ্কৃতীরা, যারা সমাজে আবর্জনা তৈরি করছিল, তাদের আজ চরম শিক্ষা দিতে হবে। একই পুলিশ আগে পারেনি, এখন পারছে কেন? আগে যে সরকার ছিল, সেই সরকারের ইচ্ছা ছিল না, এখন এই সরকার কাজ করছে।”
