AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Jhargram News: জিলিপির মেলা অথচ দোকান একটাই, তাও নিতে হয় নিলামে! এক মাস রেখে দিলেও হয় না নষ্ট, জানেন এই গ্রামের মেলার জিলিপির বিশেষত্ব!

Jhargram Jilipi Fair: মেলার জিলিপির চাহিদা আকাশছোঁয়া হলেও দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে দোকানদারের ইচ্ছার কোনও জায়গা নেই। জিলিপির দাম ঠিক করে দেয় পুজো কমিটি। প্রতি বছর নির্দিষ্ট ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এই বিশেষ জিলিপি। তবে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এই বছর কেজি প্রতি জিলিপির দাম ১০ টাকা বেড়েছে।

Jhargram News: জিলিপির মেলা অথচ দোকান একটাই, তাও নিতে হয় নিলামে! এক মাস রেখে দিলেও হয় না নষ্ট, জানেন এই গ্রামের মেলার জিলিপির বিশেষত্ব!
জিলিপির মেলাImage Credit: Tv9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Oct 26, 2026 | 11:03 AM
Share

ঝাড়গ্রাম: মেলা মানেই হরেকরকমের দোকান, নাগরদোলা, মেলা মানেই ঘুগনি, জিলিপি, গজা, পাপড়ি চাট, আইসক্রিম। দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। লক্ষ্মীপুজোতেও মেলা হয় বিভিন্ন জায়গায়। তবে জানেন কি ঝাড়গ্রামের (Jhargram) জঙ্গলমহলে এমন একটি মেলা বসে, যেখানে মূল আকর্ষণ শুধুই জিলিপি। তবে, জিলিপির (Jhargram Jilipi Mela) দোকান একটাই। শুধুমাত্র জিলিপির টানে এখানে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। শুধু ঝাড়গ্রাম (Jhargram Jilipi Fair) নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা এবং ভিনরাজ্য থেকেও বহু মানুষ ছুটে আসেন এই মেলায়।

লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে বিনপুরের হাড়দা গ্রামে বসে এই বিশেষ জিলিপির মেলা। এক-দুই কুইন্টাল নয়, এই মেলায় জিলিপি বিক্রির পরিমাণ ৫০০ কুইন্টালেরও বেশি। মেলায় নানা ধরনের দোকান থাকলেও জিলিপির দোকান থাকে মাত্র একটি। আর সেই দোকান পাওয়াও মুখের কথা নয়। রীতিমতো নিলামে অংশ নিয়ে দোকানের বরাত নিতে হয়। তবে রয়েছে বিশেষ শর্তও। সাহা ও মণ্ডল পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ এই জিলিপির দোকান দিতে পারেন না। চলতি বছরে ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকায় জিলিপির দোকানের বরাত নিয়েছেন সিন্টু সাহা নামে এক ব্যক্তি।

বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় জিলিপি

এই মেলার জিলিপির স্বাদও একেবারে আলাদা। সাধারণ জিলিপির মতো শুধু ময়দা দিয়ে নয়, বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় এখানকার জিলিপি। বিরি ও বিউলি ডালের গুঁড়ির সঙ্গে আতপ চালের গুঁড়ি মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ পদ। স্বাদে অতুলনীয় এই জিলিপির আরও একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এক-দু’দিন নয়, বাড়িতে প্রায় এক মাস পর্যন্ত রেখে খেলেও নষ্ট হয় না এই জিলিপি।

জিলিপির দাম কত?

মেলার জিলিপির চাহিদা আকাশছোঁয়া হলেও দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে দোকানদারের ইচ্ছার কোনও জায়গা নেই। জিলিপির দাম ঠিক করে দেয় পুজো কমিটি। প্রতি বছর নির্দিষ্ট ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এই বিশেষ জিলিপি। তবে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এই বছর কেজি প্রতি জিলিপির দাম ১০ টাকা বেড়েছে। ফলে বর্তমানে প্রতি কেজি জিলিপি কিনতে খরচ হচ্ছে ১১০ টাকা। অন্যান্য জায়গায় যেখানে জিলিপির দাম কেজি প্রতি ১৪০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

পারিবারিক পুজো থেকেই সর্বজনীন উৎসব

হাড়দা গ্রামের এই লক্ষ্মীপুজোর ইতিহাসও বেশ পুরনো। সাহা ও মণ্ডল পরিবারের পারিবারিক পুজোই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সর্বজনীন উৎসবের রূপ নিয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামে তৈরি হয়েছে স্থায়ী লক্ষ্মীমন্দির। আশ্বিন মাসের কোজাগরী পূর্ণিমাকে ঘিরে শুরু হয় পুজো ও উৎসব। প্রতিপদের ভোরে পুজো শেষ হয়। কৃষ্ণ তৃতীয়ায় ঘট বিসর্জন এবং কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। তারপর প্রতিমার কাঠামো তুলে রাখা হয়। প্রতি বছর সেই একই কাঠামোয় তৈরি করা হয় নতুন প্রতিমা। এই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ দিন ধরে চলে জিলিপি বিক্রি। তবে মেলার এত বড় আকর্ষণ হলেও এই জিলিপি লক্ষ্মী বা সরস্বতীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় না। জিলিপি এখানে মূলত মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

জিলিপির টানে ভিনরাজ্য থেকেও ভিড়

ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেও বহু মানুষ আসেন এই মেলায়। এমনকী প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকেও জিলিপির স্বাদ নিতে হাজির হন অনেকে। ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও এই মেলা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Follow Us