Adhir Ranjan Chowdhury: ‘রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতে হবে তৃণমূল নেত্রীকে’, খোঁচা অধীরের
Mamata Banerjee Controversy: অধীরের মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন তীব্র হতাশায় রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী দিনের কর্মসূচি ও বৈঠক প্রসঙ্গে তাঁর টিপ্পনি, "বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা আমরা দেখতে চাই। যদি কেউ যায়, তবেই বোঝা যাবে বাংলার মানুষ তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দিচ্ছে কি না।"

মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে পালাবদলের আবহে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, একসমকালে বাম শাসন হটাতে নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নিজেই রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। অধীরের খোঁচা, “রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতে হবে তৃণমূল নেত্রীকে।”
অধীর চৌধুরী সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “বামদের তাড়ানোর সময় উনি নকশালদের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলেন, পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়েছিল। এখন দিদি বিপদে পড়েছেন, তাই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ করে সবাইকে ডাকছেন।” তাঁর মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন তীব্র হতাশায় রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী দিনের কর্মসূচি ও বৈঠক প্রসঙ্গে তাঁর টিপ্পনি, “বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা আমরা দেখতে চাই। যদি কেউ যায়, তবেই বোঝা যাবে বাংলার মানুষ তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দিচ্ছে কি না।”
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি। অভিষেকের বাসভবনকে ‘মিউজিয়াম’-এর সঙ্গে তুলনা করে অধীরবাবু বলেন, “শুনছি খোকাবাবুর বাড়ি নাকি এখন দর্শনীয় স্থান হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার দৌলতে কী বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হওয়া যায় এবং সেই ক্ষমতায় কেমন বাড়িঘর বানানো যায়, তা দেখতেই মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজিয়াম হয়ে যাবে।”
আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে অধীর চৌধুরী বলেন, “দিদি হাজরার মোড়ে দাঁড়িয়ে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এটুকু নিশ্চিত, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে।”
প্রসঙ্গত, শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিজেপিকে রুখতে ‘জোট বাঁধার’ বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তৃণমূল থেকে আবেদন জানাচ্ছি, দরকারে গ্রহণ করবেন, নয়ত করবেন না। আমি সব ছাত্র-যৌবনদের আবেদনদের বলব… জোট বাঁধুন। সবাই এক প্ল্যাটফর্মে আসুন। যত রাজনৈতিক দল আছে যাঁরা বিজেপির বিরোধিতা করে সকলে আসুন…।” সেক্ষেত্রে তিনি বাম ও অতিবামদেরও আবেদন জানান। বলেন, “আমার কোনও ইগো নেই। বিজেপিকে রুখতে হলে সকলে একসঙ্গে থাকব। দিল্লিতে তো লড়াই করব। রাজ্যেও জোট বেঁধে লড়ব।” যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আবেদনে সাড়া দিতে নারাজ বামেরা। আপাতত বামেরা ‘একলা চলো’ নীতিই গ্রহণ করেছে।
এর প্রেক্ষিতে রবিবার অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্যে নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
