ডোমকল: ইন্ডিয়া জোটে তারা রয়েছে। কিন্তু, লোকসভায় কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেদের জোট দেখা যায়নি। সেটাই এবার সম্ভব হল সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে একটি সমবায় নির্বাচনে আসন সমঝোতা করল কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল। এই নিয়ে খোঁচা দিল বিজেপি।
ডোমকলের মোক্তারপুর-বিলাসপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে মোট আসন আটটি। এই নির্বাচনে আসন সমঝোতা করে কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেরা। ৫টি আসনে প্রার্থী দেয় তৃণমূল। দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিপিআইএম। ও একটি আসনে লড়ে কংগ্রেস। আসন সমঝোতার পর কোনও আসনে একের বেশি প্রার্থী না থাকায় বিনা ভোটেই জয়লাভ করেন কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূলের প্রার্থীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল।
মোক্তারপুর-বিলাসপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক হলেন তৃণমূলের জিন্নাত আলি। সভাপতি হলেন আঞ্জুমানয়ারা বিবি। মঙ্গলবার বোর্ড গঠনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি হাজিকুল ইসলাম-সহ অনেকেই। সমবায়ের সামনে মঞ্চ করে তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী প্রার্থীদের দেওয়া হয়।
সমবায় নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের তিন শরিকের আসন সমঝোতা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতা লাল্টু দাস বলেন, এই তিনটি দল আগামী বিধানসভা নির্বাচনে একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তারই প্রস্তুতি এই সমবায় নির্বাচন।
যদিও তৃণমূলের ডোমকলের ব্লক সভাপতি হাজিকুল ইসলামের বক্তব্য, “একসময় এই এলাকায় খুনের রাজনীতি হত। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মানুষ যা চাইবেন সেটাই হবে। মানুষ এই বোর্ড গঠন নিয়ে যা চেয়েছেন, সেই সিদ্ধান্তই আমরা নিয়েছি।”
ওই সমবায়ের সিপিআইএম সদস্য ফেরেসতুল্লা মণ্ডল বলেন, তিন দলের আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের পাঁচটি আসন নিয়েছে। বাকি তিনটি আসন সিপিএম ও কংগ্রেসকে ছাড়ে।
তবে আসন সমঝোতার কথা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। ডোমকলে কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি তহিদুল ইসলাম বলেন, “ডোমকলে কংগ্রেসকে দেখে ভয় পেয়েছে তৃণমূল। সেজন্যই একাজ করেছে। ওখানে তৃণমূল নেতৃত্বই কংগ্রেস সেজেছে। তৃণমূল নেতৃত্বই সিপিএম সেজেছে।”