Paschim Medinipur: কোলের শিশুকে নিয়ে ব্রিজে উঠে তখন ঝাঁপ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন গৃহবধূ, শেষ মুহূর্তে দেবদূতের মতো এগিয়ে এলেন স্থানীয় মহিলা
Ghatal: চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ জানাচ্ছে, বর্তমানে ওই গৃহবধূ ও তাঁর সন্তান সুস্থ আছে। তাঁদের ঘাটালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশও ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর: পারিবারিক অশান্তির জেরে একেবারে নিজেকে শেষই করতে দিতে ছুটলেন গৃহবধূ। একরত্তি সন্তানকে কোলে নিয়ে ব্রিজ থেকে সোজা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এলাকারই অন্য এক মহিলার তৎপরতা নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল মা ও শিশু। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার কেঠিয়া ব্রিজ এলাকায়। ঘটনার খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ওই গৃহবধূ তাঁর কোলের সন্তানকে নিয়ে কেঠিয়া ব্রিজের উপর উঠেই ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তা দেখতে পেয়ে যান স্থানীয় এক মহিলা। দেরি না করে তিনি ছুটে গিয়ে ঠিক ঝাঁপ দেওয়ার আগের মুহূর্তে ওই গৃহবধূকে জাপটে ধরেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই গৃহবধূ। কিন্তু ততক্ষণে বড়সড় অঘটন এড়ানো সম্ভব হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ক্ষীরপাই ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ মা ও শিশুকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সূত্রের খবর, ওই গৃববধূর শ্বশুরবাড়ি ঘাটাল থানার নকুড়বাজার এলাকায়। যদিও এত বড় কাণ্ডের জন্য শ্বশুরবাড়ির দিকেই আঙুল তুলেছেন ওই গৃহবধূ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল। পারিবারিক অশান্তি চরমে ওঠায় মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। তাঁর আরও দাবি, এর আগে পুলিশকে জানিয়েও কোনও স্থায়ী সুরাহা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত অপমান সহ্য করতে না পেরেই তিনি সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার কথা ভাবেন।
চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ জানাচ্ছে, বর্তমানে ওই গৃহবধূ ও তাঁর সন্তান সুস্থ আছে। তাঁদের ঘাটালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশও ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
