Murshidabad: কেন রেলগেট খুলে দিয়েছিলেন? মুখ খুললেন গেটম্যান
Murshidabad Train Crash Gatekeeper Statement: শুক্রবার সকালে গেটম্যানের গাফিলতিতে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় চার পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকালের ঘটনায় জখম অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিন পড়ুয়া ও পুলকারের চালক।

মুর্শিদাবাদ: পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় ৫ জনের মৃত্যুতে তাঁর দিকেই গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কর্মরত অবস্থায় তিনি মদ্যপ ছিলেন বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ জনতার মারধরে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বেডে শুয়েই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে মুখ খুললেন গোবিন্দপুরের দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যান অনুপ কর্মকার। দুর্ঘটনার জন্য ঘুরিয়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করলেন স্টেশন মাস্টারের দিকে। দাবি করলেন, অন্যদিন স্টেশন মাস্টার ট্রেন ছাড়ার কথা জানালেও গতকাল তা করেননি। তবে ট্রেনের নম্বর স্টেশন মাস্টার পাঠিয়েছিলেন বলে মেনে নেন তিনি।
কী বললেন গেটম্যান?
এদিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেড়ে শুয়ে রয়েছেন গেটম্যান অনুপ কর্মকার। জানালেন, তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। গতকাল দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি দাবি করেন, “প্রতিদিন আপ ও ডাউন ট্রেনের নম্বর দেন কর্ণসুবর্ণের স্টেশন মাস্টার। তারপর আপের গাড়ি ছাড়লে স্টেশন মাস্টার বলে দেন। ডাউনের গাড়ি ছাড়লেও বলে দেন। জানিয়ে দেন, আপের গাড়ি ছাড়ল। গেট বন্ধ করো। ডাউনের গাড়ি ছাড়ল, গেট বন্ধ করো।”
এরপরই গেটম্যান বলেন, “গতকাল আপের গাড়ি চলে গিয়েছে। ডাউনের গাড়ি ছাড়লে খাগড়াঘাট থেকে বলে দেন, গাড়ি ছেড়েছে। তারপর গেট বন্ধ করি। আমাদের ওখানে ডাউন লাইনে সিগন্যালটা সামনে আছে। আপের গাড়ি চলে যাওয়ার পরে সিগন্যাল লাল হয়ে ছিল। ডাউনের গাড়ি ছাড়ার কথা তখনও জানায়নি। এখনও ৫-৭ মিনিট, দশ মিনিট সময় পেয়ে যাব খাগড়া থেকে ট্রেন আসার। প্রতিদিনের মতো সেই হিসেবে আমি গেটটা ওঠাতে যাচ্ছিলাম। প্রতিদিন স্টেশন মাস্টার আমাকে বলে দেন। কিন্তু কাল আর ডাউনের গাড়ি ছেড়েছেন আমাকে বলেননি। ডাউনের গাড়ি আমার পিছন দিক থেকে আসে, ফলে দেখা যায় না।” তাঁর সাফাই, “প্রতিদিন করি। কোনও কিছু হয়নি। প্রতিদিন ট্রেন ছাড়লে বলেন। গতকাল ট্রেনের নম্বর দিয়েছিলেন, কিন্তু ছাড়ার কথা কিছু বলেননি স্টেশন মাস্টার।”
শুক্রবার সকালে গেটম্যানের গাফিলতিতে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় চার পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকালের ঘটনায় জখম অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিন পড়ুয়া ও পুলকারের চালক।
