TTE in Local Train: ‘একজনকে বিয়ে করব, একজনকে সারা রাত নাচ করাবো’, ট্রেনের ভেন্ডারে ওঠায় টিটির হাতে চরম হেনস্থার শিকার নৃত্যশিল্পী
Harassment by TTE: ঋত্বিকার দাবি, তাঁদের যখন আটকে রাখা হয়েছিল সেই সময় তাঁর মা, তাঁর নাচের শিক্ষকও টিটির সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত খারাপ ভাষায় কথা বলেন। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো তোলা হলেও জোরপূর্বক সেই ভিডিয়ো ঋত্বিকার ফোন থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

বনগাঁ: গোবরডাঙা স্টেশন থেকে যাচ্ছিলেন নাচের ক্লাসে। ট্রেনে ভিড় থাকায় ভুল করে বোনকে নিয়ে উঠে পড়েছিলেন ভেন্ডারে। আর তাতেই বিপত্তি। বনগাঁ স্টেশনে নামতেই ঋত্বিকা সাহা নামে ১৯ বছরের ওই যুবতী ও তাঁর ১৭ বছরের বোনকে আটকান এক টিটিই। চাওয়া হয় ৫ হাজারা টাকা ফাইন। এই পর্যন্ত সব স্বাভাবিক নিয়মে চললেও তারপরেই হয় ছন্দপতন। মারাত্মক দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে টিকিট চেকারের বিরুদ্ধে। অশালীন কথাও বলেন বলে অভিযোগ। বাড়ি ফোন করেও রীতিমতো হুমকি-চমকানোও হয়।
ঋত্বিকার দাবি, তাঁদের যখন আটকে রাখা হয়েছিল সেই সময় তাঁর মা, তাঁর নাচের শিক্ষকও টিটির সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত খারাপ ভাষায় কথা বলেন। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো তোলা হলেও জোরপূর্বক সেই ভিডিয়ো ঋত্বিকার ফোন থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ঋত্বিকা বলছেন, “ট্রেনে ভিড় ছিল বলে ভুল করে ভেন্ডারে উঠে পড়েছিলাম। যখন আমি বনগাঁয় নামি তখন উনি আমার সামনে এসে টিকিট দেখাতে বলেন। আমি টিকিট দেখাই আমাদের দুজনের। তখন উনি বলেন এটা ভেন্ডারের টিকিট নয় তোমাদের দু’জনকে আড়াই হাজার করে ৫ হাজার টাকা ফাইন দিতে হবে। কিন্তু আমি ওনাকে বলি যে আমার কাছে এত টাকা নেই। তখন ঘরে নিয়ে গিয়ে আমার ফোন কেড়ে নিয়ে ফোন পে খোলার চেষ্টা করেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আমার মাকে ফোন করতে বলেন। আমার মাকেও একই কথা বলেন।” এরপরই টিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে তরুণী বলেন, “আমার মা ফোন রেখে দেওয়ার পর উনি বলেন মা বলেছেন তোমাদের রেখে দিতে। আমি একজনকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করব, একজনকে সারারাত নাচ করাবো। আমার শিক্ষক ফোন করলে তাঁর সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন। ওনার কথা বলার ভিডিয়ো করেছিলাম, কিন্তু আমার ফোন নিয়ে সেগুলো ডিলিটও করে দেন।”
ইতিমধ্যেই ১৮ জুলাই বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নৃত্যশিল্পী। এদিন ফের তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করে নতুন করে বেশ কিছু তথ্য তুলে দেন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। ঋত্বিকার মা যুথিকা সাহা বলছেন, “আজ আমার মেয়ের সঙ্গে যেটা হয়েছে সেটা কাল অন্য কারও মেয়ের সঙ্গে হতে পারে। আমি চাই ওনার শাস্তি হোক। রেলের কর্মচারির কাছে যদি কোনও মেয়ে নিরাপদ না থাকে তাহলে কার কাছে থাকবে। আমি চাই আর অন্য কোনও মেয়েদের সঙ্গে যেন এমনটা না হয়।”
