Shamik On Sharmila: শর্মিলা ঠাকুরের উচিত সরলা দেবী চৌধুরানির ‘ঝরা পাতা’ বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়া: শমীক
Sharmila Tagore Vande Mataram Remark: সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর মন্তব্য করেন যে, ‘বন্দে মাতরম’ গানে একাধিক দেব-দেবীর নাম উল্লেখ রয়েছে। ফলে বহুত্ববাদী ভারতে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী বা অন্যান্য ধর্মের মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ গানটি গাওয়া কঠিন হতে পারে। সবার ভাবাবেগ ও বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে প্রথম দুটি স্তবক গাওয়াই শ্রেয় বলে মত দেন তিনি।

কলকাতা: ‘বন্দে মাতরম’ গানের সম্পূর্ণ স্তবক গাওয়া এবং সর্বজনীনতা নিয়ে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর মন্তব্য করেন যে, ‘বন্দে মাতরম’ গানে একাধিক দেব-দেবীর নাম উল্লেখ রয়েছে। ফলে বহুত্ববাদী ভারতে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী বা অন্যান্য ধর্মের মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ গানটি গাওয়া কঠিন হতে পারে। সবার ভাবাবেগ ও বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে প্রথম দুটি স্তবক গাওয়াই শ্রেয় বলে মত দেন তিনি।
শর্মিলার কথায়, “ভারতে বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাসের মানুষ বসবাস করেন। অনেকেই এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, বহু ঈশ্বরে নয়। বন্দে মাতরমের একটি স্তবকে সব দেবতার বন্দনা করা হয়েছে। পড়লেই বুঝতে পারবেন, দেবতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। যাঁরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, তাঁদের পক্ষে দেবতাদের নাম উচ্চারণ করা কঠিন। তাই সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে গেলে প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া ভালো।” শর্মিলা ঠাকুরের এই বক্তব্যের আগেই বিরোধিতা করেছেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াতও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান।
এবার মুখ খুললেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, ঠাকুর পরিবারের সদস্য হলেও জাতীয় গানকে এভাবে খণ্ডিত করার অধিকার তাঁর নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শমীক পরামর্শ দেন, “শর্মিলা ঠাকুরের উচিত সরলা দেবী চৌধুরানির ‘ঝরা পাতা’ বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন।”
১৮৭০ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’ দেশের জাতীয় গানের মর্যাদা পেয়েছে। সদ্য পাস হওয়া নতুন আইন ও নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী, জাতীয় গানের সম্মান রক্ষায় এবং এর বিকৃতি রোধে কেবল প্রথম দুই স্তবক নয়, সম্পূর্ণ গানটি গাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই আবহেই জাতীয় গান এবং তার অংশবিশেষ গাওয়া নিয়ে শর্মিলার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
