WB Assembly Election 2026 : ‘ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দেব কত ধানে কত চাল’, কাকে ‘হুমকি’ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের
Jyotipriya Mallick : জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, "কাল একটা লিস্ট বেরিয়েছে। দেখছিলাম লিস্টে অনেকগুলো নাম বাদ গিয়েছে। প্রতিটা লোক এখানে পরিকল্পনা করতে ঢুকেছেন। তাঁদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেমন রয়েছে দিল্লিতে, আর পশ্চিমবঙ্গে ইলেক্টোরাল অফিসার রয়েছেন। এদিকে হাবড়ার দুইজন এই এজেন্সির দায়িত্ব নিয়েছেন। এক হাবড়ার বিডিও, আর হাবড়া থানার আইসি। তাঁরা নাম কাটার দায়িত্ব নিয়েছেন।"

হাবড়া : তিন বারের বিধায়ক। রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। দলের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতমও বটে। তবে, ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। জেলে যেতে হয়। প্রায় ১৪ মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সেই নেতাকেই এবারের নির্বাচনে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাবড়া থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। নাম ঘোষণা পরই প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন। ফের চেনা মেজাজেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এবার প্রচারে গিয়ে হাবরা থানার আইসি ও বিডিও-কে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেরকমই একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের তরফে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একইসঙ্গে হাবড়া থানার আইসি ও বিডিও-কেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, জ্যোতিপ্রিয়র গলায় ছিল হুমকির সুর। এদিন সভা থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “কাল একটা লিস্ট বেরিয়েছে। দেখছিলাম লিস্টে অনেকগুলো নাম বাদ গিয়েছে। প্রতিটা লোক এখানে পরিকল্পনা করতে ঢুকেছেন। তাঁদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেমন রয়েছে দিল্লিতে, আর পশ্চিমবঙ্গে ইলেক্টোরাল অফিসার রয়েছেন। এদিকে হাবড়ার দুইজন এই এজেন্সির দায়িত্ব নিয়েছেন। এক হাবড়ার বিডিও, আর হাবড়া থানার আইসি। তাঁরা নাম কাটার দায়িত্ব নিয়েছেন।” এরপরই জ্যোতিপ্রিয়র হুঁশিয়ারি, “সময় আসলে ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দেব কত ধানে কত চাল।”
জ্যোতিপ্রিয়র মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। পাল্টা বিজেপি প্রার্থীও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আক্রমণ করেছেন। দেবদাস মণ্ডল বলেন,”উনি যে কথাগুলো বলছেন সুস্থ আছে কিনা আমার সন্দেহ। হারের ভয় কাজ করছে তাই সুগার চর চর করে বাড়ছে। অতিরিক্ত গরম পড়ছে। তাতে মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন। যারা সরকারি চাকরি করেন, তাঁরা জানেন কাজটা কীভাবে করতে হয়। চাকরিটা গেলে তাঁদের যাবে। ওনার না হয় অনেক টাকা আছে। তাই উনি ওনার মতো করে বলছেন। হাবড়ায় যে দাগ লাগিয়েছেন, আগামী ২৯ এপ্রিল পদ্মফুলে ভোট দিয়ে হাবড়াকে কলঙ্কমুক্ত করবে হাবড়াবাসী।”
