Jyotipriya Mallick’s Assests: স্ত্রীর হাতের বালা, কানের দুল আর বালুর আংটি! সব মিলিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মোট সম্পত্তি কত?
Jyotipriya Mallick's Affidavit: হলফনামা অনুসারে বালুর হাতে এই মুহূর্তে ২৪ হাজার টাকা রয়েছে আর তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে হাজার দশেক টাকা। একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে বালুর। তার মধ্যে কলকাতায় SBIএর ব্রাঞ্চে ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬৬২ টাকা রয়েছে। আরেকটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের বিধাননগর ব্রাঞ্চে ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৮৫৪ টাকা রয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনা: হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা তিনবারের বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন। মমতার মন্ত্রিসভায় রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ এবং পরবর্তীতে বন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য আসে ২০১১ সালে, যখন তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বাম দুর্গ পতনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ওই জেলার তৃণমূল সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। বাগ্মীতা এবং দলীয় কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে তিনি দলের অন্দরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
তবে তাঁর বর্ণময় রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় ধাক্কা লাগে ২০২৩ সালে। পশ্চিমবঙ্গ রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে পড়ার পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, মন্ত্রী থাকাকালীন রেশনের খাদ্যশস্য খোলা বাজারে পাচার এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গ্রেফতারির সময় তাঁর সল্টলেকের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার দাবি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই বিতর্ক শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত কেরিয়ার নয়, বরং ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে শাসক দলের ভাবমূর্তিতেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একসময়ের দাপুটে এই নেতার ভবিষ্যৎ এখন আইনি লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করছে। কোটি কোটি টাকার রেশন দুর্নীতির অভিযোগ, সেই বালুর সম্পত্তির পরিমাণ জানেন?
হলফনামা অনুসারে, ১৯৭৮ সালে যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী ল কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন বালু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বালুর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সবথেকে বড় বিতর্ক এই রেশন দুর্নীতি। সালটা ২০২৩। হলফনামা অনুসারে, ২০২২-২০২৩ সালে বালুর বার্ষিক আয় ছিল ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৫০ টাকা। ২০২৩-২০২৪ সালে সেটাই বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ লক্ষ ৯৪ হাজার ১০০। প্রায় দ্বিগুণের বেশি। ২০২৪-২৫ সালে বার্ষিক আয় ৩৮ লক্ষ ২৯ হাজার ৭১০টাকা। বালুর স্ত্রী মনিদীপা মল্লিকের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বার্ষিক আয় ছিল ২৬ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭২০।
হলফনামা অনুসারে বালুর হাতে এই মুহূর্তে ২৪ হাজার টাকা রয়েছে আর তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে হাজার দশেক টাকা। একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে বালুর। তার মধ্যে কলকাতায় SBIএর ব্রাঞ্চে ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬৬২ টাকা রয়েছে। আরেকটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের বিধাননগর ব্রাঞ্চে ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৮৫৪ টাকা রয়েছে। বালুর ফিক্সড ডিপোজিটই রয়েছে মোট ১১টা। টাকা রয়েছে পোস্ট অফিসেও। বেশ কয়েকটি শেয়ারও কেনা রয়েছে বালুর।
বালুর একটিই মাত্র স্করপিও গাড়ি। আর বালুর সোনা বলতে আছে চারটি আংটি। তেমনটাই উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। চারটে আংটির ওজন ১৬ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ ২০ হাজার ৮০০ টাকা। সব মিলিয়ে বালুর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ, ১ কোটি ৬৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৭৬ টাকার।
এবার আসা যাক বালুর স্ত্রীর প্রসঙ্গে। বালুর স্ত্রীর নামেও একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্য়ে তিনটি অ্যাকাউন্টেই ২লক্ষের ওপরে টাকা রয়েছে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের সল্টলেকের শাখায় বালুর স্ত্রী ৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৩৮ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর দুটি ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। দুটি মিলিয়ে মোট ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৮৬ টাকা রয়েছে। পোস্ট অফিসেও টাকা রয়েছে বালুর স্ত্রীর। রয়েছে একটি গাড়ি।
হলফনামা অনুসারে বালুর স্ত্রী সোনা বলতে আছে কেবল দু’জোড়া কানের দুল, যার ওজন ৬ গ্রাম। আর ১৩ গ্রাম ওজনের এক জোড়া হাতের বালা। সব মিলিয়ে যার আনুমানিক বাজারমূল্য বর্তমানে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ২০২ টাকা। বালুর স্ত্রী অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৬ লক্ষ ৬১ হাজার ২৫৭ টাকা।
আমহার্স্ট স্ট্রিটের বেনিয়াটোলা লেনে জ্যোতিপ্রিয়র ২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০২১ সালেই দুটি ফ্ল্যাট কেনা। দুটি ফ্ল্যাটই ২ হাজার স্কোয়ার ফিটের ওপরে। কলেজস্ট্রিটে বালুর স্ত্রীর একটি ছোট ফ্ল্যাট রয়েছে, ২০১৭ সালে কেনা সেটা। বালু হলফনামায় নিজেকে বেতনভুক আইনজীবী হিসাবেই উল্লেখ করেছেন। স্ত্রী গৃহবধূ।
