Snake: ভয়ঙ্কর ঠান্ডায় সারারাত লেপের তলায় আস্ত চন্দ্রবোড়া, সকালে সাপের ডাকেই ঘুম ভাঙল শ্যামসুন্দরের
Paschim Medinipur: ঘুম ভাঙার ঠিক আগ মুহূর্তে বিছানায় সাপের ফোঁস ফোঁস আওয়াজ শুনতে পান শ্যামসুন্দর। চোখ কচলে তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ! বালিশের পাশেই কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে সাক্ষাৎ যম। লেপের ওম পেয়ে চন্দ্রবোড়া বাবাজি তখন এতটাই তৃপ্ত যে, নড়ার নাম নেই।

চন্দ্রকোনা: শীতের রাতে একটু উষ্ণতা কে না চায়! কিন্তু সেই উষ্ণতা খুঁজতে যে খোদ যমদূত এসে বিছানায় ভাগ বসাবে, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার যুবক শ্যামসুন্দর সাঁতরা। কনকনে ঠান্ডায় লেপ-কম্বলের ওম নিতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ‘সাপের সঙ্গে রাত্রিবাস’ করলেন তিনি। বরাতজোরে প্রাণ রক্ষা পেলেও এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের সীতারশোল গ্রামে। এই গ্রামেই বাড়ি শ্যামসুন্দর সাঁতরার।
সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে শ্যামসুন্দর বাবু যখন মশারির ভেতর নিশ্চিন্তে ঘুমে বিভোর, ঠিক তখনই ঘটে ঘটনাটা। ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে একটু ‘উষ্ণ আশ্রয়’ খুঁজতে মশারির এক কোণে লেপের ভাঁজে সেঁধিয়ে যায় এক পেল্লায় চন্দ্রবোড়া সাপ। একদিকে শ্যামসুন্দর ঘুমে বিভোর, অন্যদিকে বিষধর চন্দ্রবোড়ার গা ঘেঁষাঘেঁষি, এভাবেই কাটল গোটা রাত। ছন্দপতন সকালে।
ঘুম ভাঙার ঠিক আগ মুহূর্তে বিছানায় সাপের ফোঁস ফোঁস আওয়াজ শুনতে পান শ্যামসুন্দর। চোখ কচলে তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ! বালিশের পাশেই কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে সাক্ষাৎ যম। লেপের ওম পেয়ে চন্দ্রবোড়া বাবাজি তখন এতটাই তৃপ্ত যে, নড়ার নাম নেই। এরপর আর দেরি না করে এক লাফে বিছানা ছাড়েন যুবক। হাড় কাঁপানো শীতের সকালেও কপালে তখন বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে।
খবর পাওয়ার কিছু সময় পরে চলে আসেন বন দফতরের কর্মীরা। কিন্তু মশারির সামান্য ব্যবধানে সারারাত যে এমন এক ভয়ঙ্কর অতিথি পাশে ছিল, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন গ্রামবাসী থেকে বনকর্মীরাও। শেষ পর্যন্ত বন দফতরের কর্মীরা সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পর হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন শ্যামসুন্দর।
