CPIM: জামালপুরের বহুল চর্চিত সেই সিপিএম দম্পতি ভোটের আগের দিন বিজেপিতে
Jamalpur: এদিকে ভোটের পর্ব মেটার পর সামনে আসে আরেক তত্ত্ব। পুলিশ দাবি করে,পঞ্চায়েত সদস্য হতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ওই দম্পতি। অভিযোগ উঠেছিল, সেই লক্ষ্যেই এলাকার তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসাতে দলের লোক দিয়ে নিজেদের বাড়িতে বোমা মারার ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনায় সুশান্তর সহযোগি হিসাবে এলাকার এক সিপিএম কর্মী রাম সরকারকে গ্রেফতারও করা হয়।

পূর্ব বর্ধমান: পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকে শিরোনামে এই দম্পতি। সে সময় সিপিএম করতেন সুশান্ত মণ্ডল ও দেবিকা দেবনাথ। লোকসভা ভোটের আবহেও শিরোনামে জায়গা ধরে রাখলেন। আগামিকাল সোমবার বর্ধমানে ভোট। তার আগের রাতে বিজেপিতে যোগ দিলেন তাঁরা। সিপিএমের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চতুর্থ দফার লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির পতাকা হাতে তুললেন। জানিয়ে দিলেন, সোমবার ভোটের দিন জামালপুরে দোলরডাঙা এলাকার বুথে সিপিএম ও তৃণমূলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিতে আসরে নামবেন সুশান্ত-দেবিকা।
পঞ্চায়েত ভোটে জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের ১৪১ নম্বর বুথে সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন সুশান্ত মণ্ডল। দেবিকা দেবনাথকে একই পঞ্চায়েতের ১৩৯ নম্বর বুথে সিপিএমের প্রার্থী করা হয়। ভোটে দু’জনই হারেন। তবে ২০২৩ সালের ২৫ জুন ভোরে তাঁদের বাড়িতে বোমা মারা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তোলেন তাঁরা। সিপিএমের জামালপুর-১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুকুমার মিত্র এলাকার দুই তৃণমূল কর্মী তারক বিশ্বাস ও দেবব্রত সেনগুপ্ত ওরফে দেবুকে দুষ্কৃতি বলে দাবি করে জামালপুর থানায় অভিযোগও করেন। পার্টির লেটার প্য়াডেই সেই অভিযোগপত্র লেখা হয়।
এদিকে ভোটের পর্ব মেটার পর সামনে আসে আরেক তত্ত্ব। পুলিশ দাবি করে,পঞ্চায়েত সদস্য হতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ওই দম্পতি। অভিযোগ উঠেছিল, সেই লক্ষ্যেই এলাকার তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসাতে দলের লোক দিয়ে নিজেদের বাড়িতে বোমা মারার ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনায় সুশান্তর সহযোগি হিসাবে এলাকার এক সিপিএম কর্মী রাম সরকারকে গ্রেফতারও করা হয়।
এই ঘটনার পর থেকে উত্তর মোহনপুরের বাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যায় ওই দম্পতি। পরে উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানা এলাকা থেকে সুশান্ত সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুদিন জেল খেটে আপাতত জামিনে মুক্ত সুশান্ত ও রাম। সেই সুশান্ত-দেবিকা এবার বিজেপিতে। কেন এই দলত্যাগ? দম্পতির দাবি, তাঁদের বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনার পর পুলিশ তাঁদেরই দায়ি করেছে। ইতিমধ্যেই এনআইএ তদন্তের দাবি করে আদালতেও গিয়েছেন। তবে এত কিছু হলেও যে দলের জন্য ভোটের ময়দানে তৃণমূলের সঙ্গে লড়েছিলেন, সেই দল পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তাই কাস্তে হাতুড়ি তারা ছেড়ে এবার হাতে পদ্ম তুলে নিয়েছেন।
সিপিএমের জামালপুর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুকুমার মিত্র শুনে অবাক। তাঁর দাবি, “দল সুশান্ত, দেবিকার পাশে দাঁড়ায়নি এই অভিযোগ একেবারেই সত্যি নয়। আমরা সবরকম ভাবে ওদের সঙ্গে ছিলাম। বিজেপিতে যাওয়ার এটা একটা অজুহাত মাত্র।”
জেলা বিজেপি নেতা রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর কথায়, “তৃণমূলের রাজত্বে পুলিশের করা মামলাকে সত্যি ভাবার কারণই নেই। আইন আইনের পথে চলবে। দেবিকা, সুশান্ত বিজেপিতে যোগদান করছেন। সোমবার তাঁরা বিজেপির হয়েই ময়দানে থাকবেন।” অন্যদিকে জামালপুরের তৃণমূল বিধায়ক অলোক মাজির কথায়, “দুর্নীতিগ্রস্ত, অপরাধী সকলেই বিজেপিতে গিয়ে শুদ্ধ। সেটা বুঝেই ওই দম্পতি ঠাই নিয়েছেন।”
