CPIM Election Campaign: ‘তখন যাঁরা মাওবাদী ছিল আজ তৃণমূল নেতা’, তৎকালীন গুলি খাওয়া শহিদ পরিবারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিরাট সভা CPM-এর
West bengal Assembly Election: এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী জনসভায় সেই শহিদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করে ভোট বৈতরণি পার করার চেষ্টা সিপিএমের। গুলি খাওয়া এক সিপিএম কর্মী দাবি করলেন, "তখন যাঁরা মাওবাদি ছিল আজ তৃণমূলের নেতা। ভয়ে গ্রামে ঢুকতে পারি না।"

পুরুলিয়া: এক সময় পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল ছিল লাল দুর্গ। তারপরও সেখানে খুন হন একের পর এক সিপিএম কর্মী সমর্থক। পুরুলিয়া বান্দোয়ান এবং বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৩৬ জন সিপিএম কর্মী-সমর্থক নিহত হয়েছিলেন মাওবাদীদের হাতে। একজন আইসিডিএস কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী জনসভায় সেই শহিদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করে ভোট বৈতরণি পার করার চেষ্টা সিপিএমের। গুলি খাওয়া এক সিপিএম কর্মী দাবি করলেন, “তখন যাঁরা মাওবাদি ছিল আজ তৃণমূলের নেতা। ভয়ে গ্রামে ঢুকতে পারি না।”
সোমবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও বলরামপুর বিধানসভার দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে সভা করা হয় বরাবাজার ব্লকের বেলডির মাঠে। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, আভাস রায়চৌধুরী, জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। শহিদের স্মরণ করা হয়। তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে দেওয়া হয় ফুল।
আজ শহিদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করা হয়। শহিদদের পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ। তাঁর জানিয়ে দিলেন, সেদিন যারা হত্যালিলা চালিয়েছিল, তারা এখন শাসকদলের অংশ। সরকারি চাকরি করে সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। আর যাঁরা সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন তারা সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কেউ আবার জানিয়ে দিলেন, ক্ষতিপূরণের তিন লাখ টাকা আজও তাঁরা পাননি, কারণ তাঁরা সিপিএম করেন। চন্দ্রশেখর মাঝি নামে এক বাম সমর্থক বলেন, “সালটা ২০০৩। আমি যাচ্ছিলাম দাদুর সঙ্গে। সেই সময় মাওবাদীরা এলোপাথাড়ি গুলি করে আমাদের। আমার দাদু তখনই মারা গেছিলেন। তারপর আমি গ্রাম ছাড়া হয়ে যাই। এখনও গ্রামে ভয়ে ঢুকতে পারি না। তখন যাঁরা মাওবাদি ছিল এখন তৃণমূলের নেতা। সেই কারণেই ভয়।”
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায় চৌধুরী বলেন, “মাউমুলি হচ্ছে তৃণমূল। পুরুলিয়া,ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলে তারা কারা, আজকের মুখ্যমন্ত্রী কাদের পিঠে চড়ে ক্ষমতায় এসেছে? তারপরে ১৫বছর বাংলায় মরুভুমি হয়ে গেছে। কাজের জন্য লড়াই করতে গিয়ে ৩৬ জন শহিদ হয়েছেন।”
মহম্মদ সেলিম বলেন, “খাল কেটে বিজেপিকে আনা হয়েছে। মাওবাদীদের ডেকে নিয়ে এসে খুন করেছে। শহিদদের পরিবার আছে, যাঁরা মাওবাদীদের গুলি খেয়ে ছিলে তাঁরাও আছেন। মমতা গদিতে বসার জন্য এই মাওবাদীদের স্টেটগান ও মেশিনগান আর ল্যান্ডমাইন নিয়ে ছারখার করার চেষ্টা করেছিল। তখন সব শেয়ালের এক সঙ্গে রা কেটেছিল।” রাজীব লোচন সোরেন, বান্দোয়ান বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “আমার মনে হয় এই সবে সেলিম নিজেই ছিলেন। তখন তো ওদের সরকার ছিল। তৃণমূলের দম ছিল তখন ওদের উপর কথা বলবে? ওরাই দিনে দুপুরে হার্মাদ গিরি করত।”
