BJP Worker’s Death: রায়দিঘিতে বিজেপি কর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার, বিজেপির কাঠগড়ায় তৃণমূল
BJP Worker: ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা বলছেন, “পুলিশ আর এখানকার তৃণমূল অবৈধ সম্পর্ক বলে নাটক তৈরি করছে। আসলে খুন করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা বিফল হবে। এই খুনের বিচার না মিললে বিজেপির আন্দোলন চলবে।”

রায়দিঘি: ভোটের দামামা বাজতেই বঙ্গে ঝরছে রক্ত। বিজেপি কর্মী খুনে ব্যাপক উত্তেজনা রায়দিঘিতে। ২১৬ নম্বর বুথের বিজেপির সহ-সভাপতি ছিলেন কিশোর মাঝি নামে ৩৯ বছরের ওই বিজেপি কর্মী। রায়দিঘি বিধানসভার দিঘিরপাড় বকুলতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মেনা এলাকার ঘটনা। সোমবার গভীররাতে বাড়ির পাশেই পুকুরের পাড় থেকে কিশোরকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর ছড়াতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
ভোট ঘোষণার পর থেকেই তাঁর উপর হুমকি আসছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগের তীর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। খবর পেয়ে দেহ উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত নেমে পুলিশ প্রথমে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। শেষে নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী অনিমা দাস এবং তাঁর প্রেমিক গোবিন্দ হালদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি বিশ্বচাঁদ ঠাকুর।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খবর পাওয়ার পর সকালেই নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে পৌছায় রায়দিঘি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা। নিহত বিজেপি কর্মীর বৌদি বলছেন, “পাশের বাড়ির কাকা গোবিন্দ হালদারই এই কাজ করেছে। ওর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এদের বাড়িতে অশান্তি হত। এর মধ্যে রাজনীতি নেই বলেই আমাদের মনে হয়।” অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা বলছেন, “পুলিশ আর এখানকার তৃণমূল অবৈধ সম্পর্ক বলে নাটক তৈরি করছে। আসলে খুন করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা বিফল হবে। এই খুনের বিচার না মিললে বিজেপির আন্দোলন চলবে।”
যদিও তৃণমূল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার বলছেন, “বিজেপি এটা নিয়ে আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। কিন্তু এটা আদপে ত্রিকোণ প্রেমের বিষয়। বিজেপি এখন তৃণমূলের নামে দোষ দিতে চাইছে। এর থেকে ঘৃণ্য চক্রান্ত আর কিছু হতে পারে না।”
