Falta Assembly Election: ফলতায় ‘ওয়াকওভার’ দিল তৃণমূল, ভোটেই লড়বেন না জাহাঙ্গির
২১ মে ছিল নির্বাচন। তার আগে বিরাট ঘোষণা করলেন সেই 'পুষ্পা' অর্থাৎ তৃণমূলের জাহাঙ্গীর খান। পরিষ্কার বললেন, "ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তির রক্ষার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি লড়াই ছেড়ে সরে দাঁড়ালেন

ফলতা: ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি…’ বলা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান শেষমেশ কি ঝুকেই গেলেন? কারণ, ২১ মে ছিল ডায়মন্ড-হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় পুর্নভোট। আর তার আগে বিরাট ঘোষণা করলেন জাহাঙ্গির। পরিষ্কার জানালেন, আসন্ন ভোটে তিনি লড়াই করবেন না। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠক করে বললেন, ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তির রক্ষার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি লড়াই ছেড়ে সরে দাঁড়ালেন।
আজ সাংবাদিক বৈঠক করে কী বললেন জাহাঙ্গীর?
জাহাঙ্গীর বলেন, “ফলতার উন্নয়নের জন্য, ফলতার সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য আগামী ২১ মে পুনর্নিবাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে দিলাম।” এই সিদ্ধান্ত কার? সাংবাদিকের প্রশ্নে জাহাঙ্গীর এর উত্তর দেননি। তবে, আতর লাগানো, ইভিএম-এ টেপ লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কে বা কারা এই কাজ করেছে তার উত্তর দেননি। তবে, হঠাৎ কেন জাহাঙ্গির এই সিদ্ধান্ত নিলেন কিংবা তৃণমূলের কি এটাই চাল ছিল এখনও বোঝা যাচ্ছে না।
জাহাঙ্গিরের ভোটে না লড়ার সম্ভাব্য কারণ কী?
ক) সোনার ফলতা তৈরির জন্য ভোটে লড়বেন না: আজ জাহাঙ্গির সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, ফলতার মানুষের শান্তির জন্য এবং সোনার ফলতা তৈরির জন্য সরে দাঁড়ালেন। কিন্তু এটা কতটা যুক্তি যুক্ত সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, সোনার ফলতা বানাতে গেলে তাহলে তো তাঁকে লড়াই করতে হবে, তাহলে হঠাৎই কি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন কেন? তবে কি হার স্বীকার করে নিলেন তিনি? এর আগে ছাব্বিশের ভোটের সময় তিনি উত্তর-প্রদেশ থেকে আসা আইপিএস (IPS) এ কার্যত হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি’। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ভোটের সময় গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ ছিল ভোটারদের হেনস্থা করার। তারপর যেই পুনর্নিবাচন হল তখন ময়দান ছাড়া তিনি? তাহলে কি তিনি বুঝে গিয়েছেন তাঁর পরাজয় নিশ্চিত?
খ) কোথাও কি জাহাঙ্গির কি অভিমানি? গত লোকসভা ভোটের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ভোটে লিড দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। অথচ পুনর্নিবাচনের প্রচারের সময় একবারও অভিষেককে দেখাই গেল না জাহাঙ্গিরের পাশে। উল্টো দিকে, শুভেন্দু অধিকারী প্রচারে এলেন। এমনকী, বামফ্রন্ট পর্যন্ত প্রচার করেছে ফলতায়। সেখানে কোথায় অভিষেক? কোথায় জাহাঙ্গির? এই প্রশ্ন বারেবারে উঠছিল….।
গ) তৃণমূলের অন্দরেই ধোঁয়াশা? জাহাঙ্গির যখন সাংবাদিক বৈঠক করে এই বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তার দু’মিনিট আগে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী টিভি ৯ বাংলাকে বলছেন, “ফলতায় তৃণমূল এমনিও জিতবে অমনিও জিতবে। কাউন্টিংয়ে চুরি না করে… তাহলে জিতবে।” পরক্ষণেই তাঁদের প্রার্থী জানিয়ে দিলেন, তিনি লড়ছেন না। তাহলে দলের অন্দরে নেতাদের কাছে এই নিয়ে কোনও খবরই ছিল না?
ঘ) জাহাঙ্গিরকে তুলে নিয়ে তৃণমূল কি চাল দিল? ভোটে জেতার পর সরকার গঠনের পর পুনর্নিবাচন ভোটের ইতিহাসে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর আগে জাহাঙ্গির অভিযোগ করে বলেছিলেন, কয়েকটি বুথ থেকে অভিযোগ আসার জন্য পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই কেন ভোট হচ্ছে। তাহলে কি তৃণমূল জাহাঙ্গিরকে সরিয়ে বার্তা দিতে চাইল? তারা এই ভাবে ভোটে লড়বে না?
আদৌ কি ভোটের এভাবে নমিনেশন তোলা যায়?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময় পেরিয়ে গেছে তাই ইভিএম এ নাম থাকবে জাহাঙ্গীরের
