AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bird Nest in Puja Pandal Viral Story: সদ্য পালক গজাচ্ছে, ওড়া শেখেনি! ঘুঘু পরিবারের জন্য পুজোর মাস ঘুরলেও খোলা হচ্ছে না চুঁচুড়ার পুজো মণ্ডপ! উদ্যোক্তারা বলছেন, ‘ওদেরও তো বাঁচার অধিকার আছে’

Chinsura Bird Viral Story: একটি ঘুঘু উড়ে গিয়েছে বাচ্চাকে নিয়ে। অন্য বাচ্চাটি সদ্য ডিম ফুটে বেরিয়েছে। পালক গজাচ্ছে সবে। তাই উদ্যোক্তারা মণ্ডপ খুলবেন না। ক্লাবের সদস্যরা বলেন, "আমরা মানুষ, ওরাও প্রাণী। ওদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে তারা উড়তে না শেখা পর্যন্ত মণ্ডপ খুলব না।"

Bird Nest in Puja Pandal Viral Story: সদ্য পালক গজাচ্ছে, ওড়া শেখেনি! ঘুঘু পরিবারের জন্য পুজোর মাস ঘুরলেও খোলা হচ্ছে না চুঁচুড়ার পুজো মণ্ডপ! উদ্যোক্তারা বলছেন, 'ওদেরও তো বাঁচার অধিকার আছে'
ঘুঘুর বাসার জন্য খোলা হচ্ছে না মণ্ডপ।Image Credit: TV9 বাংলা
| Edited By: | Updated on: Nov 02, 2026 | 9:12 AM
Share

চুঁচুড়া: কথা দিয়ে কথা রাখছে সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘ। ছোট্ট মানবিক উদ্যোগের জন্যই প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছে চুঁচুড়ার এই পুজো কমিটি। কী সেই উদ্যোগ? পাখির ছানা বাঁচাতে, এখনও মণ্ডপ ভাঙেনি তারা। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

দুর্গাপুজো শেষ। এবার মণ্ডপ খোলার পালা। কিন্তু মণ্ডপ খুলতে গিয়েই দেখা যায়, মণ্ডপের ছাদে বাসা বেঁধেছে ঘুঘু পাখি। ঘুঘুর বাসায় রয়েছে সদ্যোজাত ছানাও। তাই পাখির নিরাপত্তার কথা ভেবে মণ্ডপ খুলতে নারাজ হন ক্লাবের সদস্যরা। সিদ্ধান্ত নেন, ছানাটি বড় হয়ে উড়তে না শেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তাঁরা। চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘের দুর্গা পুজো মণ্ডপ না ভেঙে, পাখির বাসা বাঁচানো এখন সকলের চর্চার বিষয়।

এ বছর ৫৩ বছরে পুজো সম্পন্ন করেছে সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘ।সাঁচি স্তুপের আদলে মন্ডপের সমস্ত কাজ নিজেরাই করেছেন ক্লাব সদস্যরা। জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই মণ্ডপের বাঁশের কাঠামোতে বাসা বাঁধতে শুরু করে দুটি ঘুঘু। মণ্ডপের দুই প্রান্তে খরকুটো দিয়ে বাসা তৈরি করে তারা। পরে সিলিং তৈরির সময় দেখা যায়, দুটি বাসায় মোট চারটি ডিম রয়েছে। পাখিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিলিংয়ে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন উদ্যোক্তারা। পরিবর্তে বাসার উপরে শুধু পাতলা কাপড় টাঙানো হয়।

এরই মধ্যে পেরিয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। হুগলি জেলায় সেভাবে প্রভাব না পরলেও, বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে দমকা হওয়া। সেই দাপট সামলেও নিজের বাসা ও ছানাকে ছেড়ে যায়নি ঘুঘুটি।

ক্লাবের সদস্যরা মণ্ডপের সিলিংয়ে উঠে মাঝে-মধ্যেই দেখেন। তারই মধ্যে একটি ঘুঘু তার ছানাকে নিয়ে উড়ে গিয়েছে। অন্য বাসায় রয়েছে আরও একটি ছোট্ট ছানা। তার গায়ে সদ্য পালক গজাতে শুরু করেছে। তবে ঠিক কবে ছানাটির জন্ম হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না উদ্যোক্তারা।

সদস্যরা বলেন, “আমরা মানুষ, ওরাও প্রাণী। ওদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে তারা উড়তে না শেখা পর্যন্ত মণ্ডপ খুলব না।” পুজো কমিটির সহকারী সম্পাদক প্রণব পাল জানান, জিটি রোডের পাশেই রয়েছে এই মন্ডপ। তাই আপাতত মণ্ডপের সামনের রাস্তার দিকের কিছুটা অংশ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মণ্ডপের উপরের ছাদ এখনই খোলা হবে না। ছানাটি বড় হয়ে উড়তে শেখার পরেই মণ্ডপ খোলার কাজ শুরু করবেন তাঁরা।

মণ্ডপসজ্জা কিংবা আলোর ঝলকানি নয়, এবার চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘের দুর্গাপুজো মানুষের মনে জায়গা করেছে এক ছোট্ট ঘুঘুর ছানার নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। মায়ের মণ্ডপে পাখির এই নতুন সংসার যেন বার্তা দিল, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রকৃতি ও প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও মানুষের।

এরই মধ্যেই এই পুজোর কমিটির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও। তিনি একটি পোস্ট শেয়ার করে পুজো কমিটির উদ্দেশ্যে লেখেন, “চাইলেই পারা যায়,দেখুন শিখুন।একেই বলে মানুষ হওয়া।”

পুজো কমিটির সদস্যরা জানান, এটা তাদের কাছে বড় পাওয়া। আগামিদিনে তাদের আরও ভালো কাজে উৎসাহ দেবে মানুষের এই ভালোবাসা।

Follow Us