বড় দুর্নীতি Air India-এ? বিপাকে ৪ হাজার কর্মীর চাকরি!
২০২২ সালে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকা এয়ার ইন্ডিয়াকে কিনে নেয় টাটা গোষ্ঠী। এরপর থেকেই সব বিষয়ে সংস্কার শুরু করেছে টাটা। শোনা যাচ্ছে ৪ হাজার কর্মী চাকরি খোয়াতে চলেছেন। দোষ প্রমান হলে শাস্তি পাওয়ার পাশাপাশি দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা।

কলকাতা : দিনকয়েক আগেই বিতর্ক হয়েছিল ইন্ডিগোকে নিয়ে। সেই বিমানসংস্থার রোস্টার সংক্রান্ত বিভ্রাটে মুশকিলে পড়েছিলেন বহু গ্রাহক। সুযোগ বুঝে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল বাকি বিমান ভ্রমণ সংস্থাগুলি। এবার বিতর্কে এয়ার ইন্ডিয়া। ছুটির ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধে অপব্যবহারে দোষী কর্মীদের উপর শাস্তির কোপ নেমে আসতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে ৪ হাজার কর্মী চাকরি খোয়াতে চলেছেন। দোষ প্রমান হলে শাস্তি পাওয়ার পাশাপাশি দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। এই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে টাটার এই বিমান সংস্থা।
পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী অডিটে দেখা যায়, কর্মীদের ছুটি নিয়মে চূড়ান্ত অসঙ্গতি। টাটা গোষ্ঠীর কর্মীরা ছুটির ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধা পান, একে বলে ‘Employee’s Leisure Travel (ELT)’। নিয়ম অনুযায়ী, এই সার্ভিসে প্রত্যেক কর্মী বিনামূল্যে বিমান যাত্রার বেশ কিছু ভাউচার পেয়ে থাকেন। কেবল স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-মার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রমাণ দেখালেই এই ভাউচারের সুবিধা পাওয়া যায়। এই অডিটেই দেখা গিয়েছে, এই সম্পর্কের বাইরে গিয়েও অনেকে এই ভাউচারের সুবিধা ভোগ করছেন। কেউ কেউ আবার ভাউচার নিজের নামে নিয়ে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করেছেন। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের নাম দিয়েও এই ভাউচার নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। দিন কয়েক আগেই উড়ান সংস্থার কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে।এই বিষয়ে তদন্ত শেষ হলেই আসল দোষীদের ব্যাপারে জানা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে সংস্থা। তাদের মোট কর্মী ২৪ হাজার। শোনা যাচ্ছে, ৪০০০ জন এই ELT দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে সংস্থা। ইতিমধ্যেই এই ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মের বদল করেছে কর্তৃপক্ষ। আরও কঠোর হয়েছে এই সার্ভিস। এছাড়া, ভাউচার বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ কোম্পানিকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক কর্মীকে।
২০২২ সালে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকা এয়ার ইন্ডিয়াকে কিনে নেয় টাটা গোষ্ঠী। এরপর থেকেই সব বিষয়ে সংস্কার শুরু করেছে টাটা। পিটিআইয়ের মতে, যেসব কর্মীদের এই সুবিধে অপব্যবহারের দোষে দোষী বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণের পর যোগ দিয়েছিলেন। এই দুর্নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার দ্বারা প্রকাশিত নিয়মে বলা হয়েছে, এবার থেকে নমিনি-র বিবরণ ও সম্পর্কের প্রমাণও দিতে হবে। এক বছরে একজন কর্মীকে মোট ১৪টি প্যাসেজ বা রিটার্ন বিমান টিকিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে ওপেন-জ (Open Jaw) টিকিটও থাকে। তবে এই দুর্নীতি এক কথায় যেন চোখ খুলে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার।
