রেস্টুরেন্টে খাবারের বিলে ‘LPG চার্জ’! আপনার কাছ থেকে নিলে কী করবেন?
ইতিমধ্যেই জ্বালানি আতঙ্কে ভুগছে দেশ। কলকাতা থেকে কানপুর, ইম্ফল থেকে ইন্দোর, সর্বত্রই গ্যাসের আকাল। লম্বা লাইন পেট্রোল পাম্প গুলিতে। রান্নার গ্যাসেরও অভাব প্রকট হয়েছে বেশ কয়েকদিনে। অনলাইনে গ্যাস বুক করলে আসতে অনেক সময় লাগছে ফলে গৃহস্থরা পড়েছেন বেকায়দায়।

কলকাতা : জ্বলছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ঝামেলা কমার এখনও কোনও চিহ্ন নেই। টানা চলতে থাকা সংঘাতের ফলে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। এরই প্রভাব পড়ছে সাধারন মানুষের হেঁশেলে। অপরিশোধিত তেলের সঙ্কট হওয়ায় দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাস, পেট্রোলের। এই দাম বাড়ার ফলে প্রভাব পড়েছে হোটেল ব্যবসায়। খাবারের দাম বাড়ার পাশাপাশি এবার গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত ‘এলপিজি শর্টেজ চার্জ’ নেওয়া শুরু করেছে রেস্তোরাঁগুলি। বেআইনি টাকা চাওয়া বন্ধ করতেই কড়া নিয়ম জারি করেছে কেন্দ্রীয় গ্রাহক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বা CCPA।
CCPA জানিয়েছে, অনলাইন খাবার ডেলিভারি বা রেস্তোরাঁতে খেতে গেলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই এলপিজির চার্জ নেওয়া হয়েছে। CCPA-র মতে, এই অতিরিক্ত টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি ও এর ফলে রেস্তোরাঁ গুলিকে উপভোক্তা আইন, ২০১৯-এর প্রণীত নিয়মের অধীনে কড়া শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
তাদের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী নতুন নিয়মগুলি নিম্নলিখিত – 1.উপভোক্তা আইন, ২০১৯ অনুযায়ী এধরণের অতিরিক্ত টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি ও এর ফলে রেস্তোরাঁগুলিকে কড়া মাশুল চোকাতে হতে পারে।
2. খাবারের মূল্য ছাড়া শুধুমাত্র ট্যাক্স নিতে পারবে রেস্তোরাঁগুলি। বিলেও যেন এই দুটিই উল্লেখ করা থাকে। এর বাইরে কোনও অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া যাবে না। অনলাইন ডেলিভারি কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে এরসঙ্গে যোগ হতে পারে প্ল্যাটফর্ম ফি ও ডেলিভারি চার্জ।
3. বিলে কোনও অর্থেই এলপিজি চার্জ, গ্যাস চার্জ, গ্যাস শর্টেজ চার্জ সংক্রান্ত কোনও কথাই উল্লেখ থাকবে না।
গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর উপায় –
1. গ্রাহকরা সরাসরি নিজের জেলা আধিকারিক বা CCPA-র অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর নাম ও বিলের প্রমাণপত্র লাগতে পারে।
2. ১৯১৫ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন। কল করার সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা।
3. NCH মোবাইল অ্যাপ বা UMANG অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন।
4. +918800001915 নম্বরে হোয়াটস্অ্যাপ করেও অভিযোগ করতে পারেন।
5. এছাড়াও E-Jagriti পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে অভিযোগ করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই জ্বালানি আতঙ্কে ভুগছে দেশ। কলকাতা থেকে কানপুর, ইম্ফল থেকে ইন্দোর, সর্বত্রই গ্যাসের আকাল। লম্বা লাইন পেট্রোল পাম্প গুলিতে। রান্নার গ্যাসেরও অভাব প্রকট হয়েছে বেশ কয়েকদিনে। অনলাইনে গ্যাস বুক করলে আসতে অনেক সময় লাগছে ফলে গৃহস্থরা পড়েছেন বেকায়দায়। তার সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো যোগ হয়েছে এই রেস্তোরাঁর অতিরিক্ত চার্জ। ইতিমধ্যেই গোটা দেশে নজরদারি শুরু করেছে CCPA। যেকোনও অভিযোগ এলেই সেটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে, এমনই আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রাহক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
