CPIM new Alliance: ‘শূন্য’-র গেরো কাটাতে নতুন সঙ্গী খুঁজে নিল সিপিএম? কাদের সঙ্গে মঞ্চে দেখা গেল?
Murshidabad: ওই সভায় সিপিএম নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। ছাব্বিশের নির্বাচনে কি এসডিপিআই-র সঙ্গে জোট করবে সিপিএম? সভায় সিপিএম নেতৃত্বের থাকা নিয়ে এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম বলেন, "জাতিগত বৈষম্য, ধর্মীয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন সভা করছি। তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে সেই সভায় আহ্বান জানাচ্ছি।"

মুর্শিদাবাদ: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় শূন্য। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই শূন্যের গেরো কাটাতে কি কোনও নতুন সঙ্গীর হাত ধরবে সিপিএম? বৃহস্পতিবারে এক সভার পর এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে। ছাব্বিশের নির্বাচনে কাদের হাত ধরতে পারে সিপিএম? নতুন জোটের সম্ভাবনা নিয়ে কী বলছে বাম নেতৃত্ব?
দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট । নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। বৈষম্য বিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া অর্থাৎ এসডিপিআই। সেই মঞ্চে দেখা গেল মুর্শিদাবাদের সিপিআইএমের জেলা সম্পাদককে। এছাড়াও ছিলেন সিপিআইএম-এর অন্য নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থকরা। মুর্শিদাবাদের ডোমকল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এসডিপিআই-এর ডাকে অনুষ্ঠিত হয় এক বৈষম্য বিরোধী সমাবেশ। সমাবেশের মঞ্চ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন, সংখ্যালঘু অধিকার হরণ, লাগামহীন দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন এসডিপিআই নেতৃত্ব। বক্তারা দাবি করেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা, সামাজিক সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও জনপ্রতিনিধিরা সংসদ কিংবা বিধানসভায় নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ।
এছাড়াও বেশ কিছু ইস্যুতের রাজ্যের তৃণমূল এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এসডিপিআই ও সিপিআইএম নেতৃত্ব। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম, জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল, রাজ্য সম্পাদক মাসুদুল ইসলাম, শবনম মুস্তারী। এই সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সমাবেশ থেকেই রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার করার বার্তা দিল এসডিপিআই।
ওই সভায় সিপিএম নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। ছাব্বিশের নির্বাচনে কি এসডিপিআই-র সঙ্গে জোট করবে সিপিএম? সভায় সিপিএম নেতৃত্বের থাকা নিয়ে এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম বলেন, “জাতিগত বৈষম্য, ধর্মীয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন সভা করছি। তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে সেই সভায় আহ্বান জানাচ্ছি। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি লিখেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, তাঁরাও বৈষম্য বিরোধী লড়াইয়ের সঙ্গে রয়েছেন। সেলিম জানিয়েছিলেন, তিনি দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে পাঠাবেন। সেই মতো আমাদের সভায় সিপিএম নেতৃত্ব এসেছেন।”
আর সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, “আমাদের পার্টির স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী, যাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকারকে রক্ষা করতে চান, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী যারা সেই লড়াইয়ে সামিল হবে, তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আগামিদিনে এগিয়ে যাব।”
SDPI-র সঙ্গে মঞ্চে সিপিএম নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “সিপিএম ২০২১ সালে শূন্য পেয়েছিল। সেই শূন্য থেকে উতরোতে জঙ্গিগোষ্ঠী ও দেশদ্রোহী দল PFI ভেঙে যে এসডিপিআই হয়েছে, তাদের হাত ধরছে। কোথায় গেল সাম্যবাদ? লেনিনবাদ-মাক্সসবাদ কোথায় গেল? এরপর হুমায়ুনও ভরসা হবে। কিন্তু, শূন্য শূন্যই থাকবে। এসডিপিআইয়ের সঙ্গে সিপিএম নেতাদের মঞ্চ শেয়ার লজ্জাজনক।”
