আশাজির কারণে কি আরডি বর্মণ গান গাওয়াতেন না আরতিকে দিয়ে? মুখ খুললেন গায়িকা
তাঁর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে গলা ভিজে আসে আর এক কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, "লতাদির চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, আজ সেই শূন্যতা আরও বেড়ে গেলো , কত কী শিখেছি ওর কাছে, কত গানের সুর, ছন্দ তাল নিয়ে আলোচনা হত। আজ বহু কথা ভিড় করে আসছে। আশাজি বার বার বলতো, এই যে গানের প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সেখানে তো লতা,আশাজির গানই গাইছে সকলে, যে গলার কাজ করেছেন, সেটাই কপি করছে, নতুন কিছু আর আসছে কোথায়? "

হিন্দি ফিল্ম জগতের সঙ্গে বাংলার গভীর সম্পর্ক বহু বহু বছর ধরে চলে আসছে। বাঙালি পরিচালকের নির্দেশনায় যেমন বহু অবাঙালি অভিনেতা পরিচিত হয়েছেন, তেমনই বহু বাঙালি সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করে অমর হয়ে রয়েছেন গায়ক-গায়িকা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আশা ভোঁসলে। সঙ্গীত পরিচালক আর ডি বর্মনের ঘরনিও তিনি। বিরানব্বই বছর বয়সে পরোলোক গমন করেন। তাঁর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে গলা ভিজে আসে আর এক কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “লতাদির চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, আজ সেই শূন্যতা আরও বেড়ে গেলো , কত কী শিখেছি ওর কাছে, কত গানের সুর, ছন্দ তাল নিয়ে আলোচনা হত। আজ বহু কথা ভিড় করে আসছে। আশাজি বার বার বলতো, এই যে গানের প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সেখানে তো লতা,আশাজির গানই গাইছে সকলে, যে গলার কাজ করেছেন, সেটাই কপি করছে, নতুন কিছু আর আসছে কোথায়? ”
আরতি মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, “আশাজি খুব বিরক্ত হতেন, নতুন শিল্পীরা নিজেদের কোনও স্টাইল তৈরি করছে না, সেই আগেকার গায়ক গায়িকাকেই কপি করছে, এটা একদম পছন্দ করতেন না। কত ধরনের গান গেয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ডিসিপ্লিন ছিলেন রেয়াজ করতেন। আসলে মন্দেস্কর পরিবার প্রথম দিকে বিভিন্ন স্টেজ শ্যো করত, সেই সময় আশাজি খুব ছোটো ছিল, তাই ছোট থেকেই স্টেজে গাওয়ার যে উচ্ছলতা সেটা ওর গানে পরবর্তী সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। কত সময় কাটিয়েছি, গানের মধ্যে যে হরকত করতেন, সেই নিয়ে আলোচনা হতো।”
আশা ভোঁসলের গান যেমন চর্চায় থাকত,তেমনি বিতর্কিত ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। কাজ নিয়ে খুব প্যাশনেট ছিলেন, তাই নানা বিতর্কের সঙ্গে অনেক শিল্পীদের নানা অভিমান মনে বাসা বেঁধেছিল। কিছুদিন আগেই টিভিনাইন বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে সঙ্গীত শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মুম্বই কি ভয়ংকর জায়গা খুব ভালো করে চিনে গিয়েছি, আমার গানের জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার পাওয়ার পর থেকে আরডি বর্মন আমাকে দিয়ে আর গান গাওয়াতে পারেননি, প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝেছি, আরডি বর্মন বলতেই মঙ্গেশকরের পরিবারে গান না গেলে ওই শহরে থাকা যাবে না। ” সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরতি মুখোপাধ্যায়ের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, মুম্বইয়ে লতাজি আশাজির অদৃশ্য হাতের জন্য আরডি বর্মন তাঁকে দিয়ে আর গাওয়াতে পারেননি।
