PMO order: রাহুলের মৃত্যু কেন হল খুঁজে বের করুন, ওড়িশা পুলিশকে কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Rahul Banerjee death case investigation: ওড়িশায় ধারাবাহিক শুটিংয়ের সময় টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। সর্বসর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও বালেশ্বর পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিশেষ দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওড়িশায় আউটডোর শুটিং চলাকালীন টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee) আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নয়াদিল্লি। রাহুলের এমন মর্মান্তিক পরিণতি কি কেবলই এক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কাজ করেছে শুটিং সেটের চূড়ান্ত অব্যবস্থা? এই নিয়ে যখন স্টুডিও পাড়ায় তীব্র ক্ষোভ, ঠিক তখনই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। অভিনেতার মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে এবং এর নেপথ্যে থাকা আসল কারণ খুঁজে বের করতে এবার ওড়িশা সরকারকে কড়া নির্দেশ পাঠানো হয়েছে পিএমও-র তরফ থেকে।
প্রশাসন ও চলচ্চিত্র সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, সেটে অভিনেতা ও কলাকুশলীদের জন্য সুরক্ষাবিধির ন্যূনতম তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনও রকম পূর্বপ্রস্তুতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য করার ফলেই প্রাণ হারিয়েছেন রাহুল। এই ঘটনা সামনে আসতেই টলিপাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এর পরেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামে সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠন (AICWA)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত সরাসরি এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র জমা দেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে।
PRIME MINISTER’S OFFICE ORDERS ACTION IN THE DEATH CASE OF WEST BENGAL ACTOR RAHUL ARUNODOY BANERJEE
Acting on the representation submitted by the All Indian Cine Workers Association (AICWA) President Suresh Shyamlal Gupta, the Prime Minister’s Office has taken cognizance of the… pic.twitter.com/mmJ26VMUFo
— All Indian Cine Workers Association (@aicwaofficial) June 11, 2026
ট্যুইট অনুযায়ী সরকারি অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা পড়া এই আবেদনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে পিএমও। দিল্লির তরফে গ্রিন সিগনাল মেলার পরেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে এই সংক্রান্ত জরুরি ফাইল পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের কড়া নির্দেশের পর ওড়িশা প্রশাসনও আর কোনও সময় নষ্ট করতে চাইছে না। ইতিমধ্যেই বালেশ্বর জেলার পুলিশ সুপারের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে গোটা ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, শ্যুটিং সেটের এই গাফিলতির তদন্তভার তুলে দেওয়া হচ্ছে একটি বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল অর্থাৎ সিট (SIT)-এর হাতে। সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনের এই চিঠিতে নাম জড়িয়েছে টলিউডের প্রথম সারির বেশ কিছু নামের। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-কে।
সংগঠনের দাবি, এই অকালমৃত্যুর পেছনে সরাসরি দায়ী প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুটিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মূল ব্যক্তিরা। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর ধারা বদলে সরাসরি খুনসহ কড়া ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ার অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থাটিকে পাকাপাকিভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার জোরালো দাবিও তোলা হয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র দুনিয়ার এই আউটডোর শ্যুটিংগুলোতে টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠছে। ওড়িশা পুলিশের এই বিশেষ তদন্তকারী দল এখন শুটিং সেটের ঠিক কী কী নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পায় এবং অভিযুক্ত প্রযোজকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী আইনি পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।
