Sunil Lodhi singer: ট্রেনের কামরায় হনুমানের গান গেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, সেখান থেকে আজ সিনেমায় বড় সুযোগ! কে এই সুনীল?
Hanuman Ansh: একসময় পেটের দায়ে ট্রেনের কামরায় বাটি হাতে ঘুরে ভজন গাইতেন জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন সুনীল লোধি। সেই সুরের জাদুতেই রাতারাতি বদলে গেল ভাগ্য। নেটপাড়ায় ভাইরাল হওয়া থেকে সোজা বলিউডের রুপোলি পর্দায় এন্ট্রি, ‘হনুমান অংশ’ ছবিতে তাঁর গান আজ বক্স অফিসে ৫০ কোটি পার করিয়েছে, মন জয় করেছে কোটি কোটি শ্রোতার। কীভাবে এল বলিউডে গানের সুযোগ?

সুনীল লোধি (Sunil Lodhi)- এই মুহূর্তে গোটা দেশের নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে মধ্যপ্রদেশের এই তরুণ। তাঁর গাওয়া ভজন এখন সাধারণ মানুষের মুঠোফোনে রিল আর শর্টসে রীতিমতো রাজত্ব করছে। নিম করৌলি বাবার জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘হনুমান অংশ’ ছবিতে তাঁর গান অন্তর্ভুক্ত হতেই বক্স অফিসে ছবিটি প্রায় ৫৩ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, বলিউডে ইতিমধ্যেই আরও আটটি নতুন গান রেকর্ডিংয়ের বড় চুক্তি সই করে ফেলেছেন তিনি। অথচ এই সুনীলই একসময় পেটের তাগিদে ট্রেনের কামরায় কামরায় বাটি হাতে ঘুরে ভজন গাইতেন। সামান্য খুচরো পয়সায় চলত সংসার। সেই দিন পেরিয়ে আজ তিনি বলিউডের তারকা কণ্ঠ।
মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার সুরখী বিধানসভার অন্তর্গত এক ছোট্ট গ্রাম আগ্রা। সেখানেই চরম অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন ২৫ বছরের সুনীল। পরিবারের সম্বল বলতে ছিল মাত্র দু’একর জমি আর কয়েকটি গবাদি পশু। জন্ম থেকেই চোখে দেখতে পান না। বাবা-মা সাধ্যমতো ডাক্তার দেখিয়েছেন, কিন্তু দৃষ্টি ফেরেনি। আর্থিক অনটন আর অন্ধত্বের জেরে স্কুলের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যায়। এক সাক্ষাৎকারে সুনীল বলেন, “আমার বাবা-মা চিকিৎসার সবরকম চেষ্টাই করেছিলেন, কিন্তু হয়তো ঈশ্বরের ইচ্ছে ছিল না। তাই নিজের চোখে এই সুন্দর পৃথিবী কখনও দেখতে পাইনি। তবে ভগবানের ভক্তিতে নিজেকে সঁপে দেওয়ার পর মনে হয়েছিল পুরো জীবনটাই যেন বদলে গিয়েছে।”
কীভাবে এল বলিউডে গানের সুযোগ?
ছোটবেলা থেকেই সুনীলের গলায় মুগ্ধ হয়ে যেতেন অনেকেই। হাতে তমুরা বাদ্যযন্ত্র তুলে নিয়ে তিনি বুন্দেলখণ্ডের লোকগান ও হনুমানের ভজন গাইতেন। ২০১৯ সালে তাঁর জীবনে বড় সুযোগ আসে ইউটিউবার রোহিত সাহুর মাধ্যমে। রোহিত তাঁর ‘বুন্দেলি দুনিয়া’ চ্যানেলে সুনীলের গান রেকর্ড করে আপলোড করতে শুরু করেন। এর মধ্যে “মোরে সঙ্কট কে কাটাইয়া হনুমান” ভজনটি নেটমাধ্যমে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ দেখেন। সুনীলের কথায়, “আমার লড়াই এবং আজকের এই সাফল্যের পেছনে রোহিতের ভূমিকা সবথেকে বেশি। উনি হাত ধরে পাশে না দাঁড়ালে হয়তো আজও গ্রামের অচেনা এক কোণেই পড়ে থাকতাম।”
এরপর মুম্বইয়ে ডাক আসে সাই বাবা স্টুডিওতে গান রেকর্ডিংয়ের জন্য। মুম্বইয়ের ভারসোভা বিচে সুনীলের তোলা কিছু ছবি সমাজমাধ্যমে দেখে যোগাযোগ করেন পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী। তিনি সুনীলের কণ্ঠে “ম্যানে তেরে হি ভরোসে হনুমান, সাগর মে নইয়া ডার দই” গানটি শুনে মুগ্ধ হন এবং নিজের ছবি ‘হনুমান অংশ’-তে ব্যবহার করেন। ১.৮ কোটি টাকার কম বাজেটের সেই ছবি বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পেয়েছে। এখন সুনীলের স্বপ্ন জনপ্রিয় গায়ক জুবিন নটিয়ালের সঙ্গে মাইক ভাগ করে নেওয়ার। নিষ্ঠা আর প্রতিভা থাকলে ভাগ্যের চাকা যে কীভাবে ঘুরে যায়, সুনীল লোধি আজ তার সেরা প্রমাণ।
