‘ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত’, কেন ‘মন ভাঙল’ হেমার?
শুধু হেমা নন, সরব হয়েছেন দলের অন্য হেভিওয়েট তারকা সাংসদ কঙ্গনা রানওয়াতও। ‘কুইন’ অভিনেত্রী এই ঘটনাকে নিজের ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কঙ্গনা শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি, সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এর থেকে লজ্জার আর যন্ত্রণার কিছু হতে পারে না। কংগ্রেস সমস্ত সীমা অতিক্রম করে ভারতের কন্যাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।”

সংসদে তখন টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নারী শক্তিকে আরও মজবুত করতে পেশ হয়েছিল ‘নারী সংরক্ষণ বিল’। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় লোকসভায় পাস করানো গেল না এই ঐতিহাসিক বিল। আর এই ব্যর্থতায় কার্যত ভেঙে পড়েছেন বিজেপির তারকা সাংসদ হেমা মালিনী। স্রেফ রাজনীতিক হিসেবে নয়, একজন নারী হিসেবেও এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’।
বিলটি পাস না হওয়ায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মথুরার সাংসদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি ভারতের সমস্ত মহিলাদের জন্য এক দুঃখের দিন। বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির ঠিক আগেই সংসদে দাঁড়িয়ে জোর সওয়াল করেছিলেন হেমা। মহিলাদের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু ফল যখন বিপক্ষে গেল, তখন নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। হেমা লিখেছেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি ভীষণ হতাশ। বিলটি আটকে যাওয়ায় দেশের নারীদের সার্বিক উন্নয়নের পথ আরও দীর্ঘায়িত হল।”
শুধু হেমা নন, সরব হয়েছেন দলের অন্য হেভিওয়েট তারকা সাংসদ কঙ্গনা রানওয়াতও। ‘কুইন’ অভিনেত্রী এই ঘটনাকে নিজের ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কঙ্গনা শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি, সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এর থেকে লজ্জার আর যন্ত্রণার কিছু হতে পারে না। কংগ্রেস সমস্ত সীমা অতিক্রম করে ভারতের কন্যাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।”
কেন ভেস্তে গেল লক্ষ্য?
সাধারণত যে কোনও বিল পাসের জন্য সাধারণ সংখ্যাধিক্য থাকলেই চলে, কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় ‘স্পেশাল মেজরিটি’ বা দুই-তৃতীয়াংশ ভোট। লোকসভায় বিলের পক্ষে বেশি ভোট পড়লেও, সেই জাদুকরী সংখ্যায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের যে স্বপ্ন ভারতের মহিলারা দেখেছিলেন, তা ফের বিশ বাঁও জলে চলে গেল।
হতাশার মাঝেই অবশ্য হাল ছাড়তে রাজি নন হেমা মালিনী। নিজের অনুগামীদের উদ্দেশে তিনি একটি বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখার কথা বলে তিনি সকলকে আর্জি জানিয়েছেন যেন দেশবাসী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ শোনেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিলটি ধাক্কা খেলেও মহিলাদের অধিকার আদায়ে তাঁদের লড়াই থামবে না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৬-এর ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের আগে এই বিলের ভবিষ্যৎ কী? রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে বিনোদন জগতের এই দুই ‘পাওয়ার হাউস’ যেভাবে রাজনীতির ময়দানে সরব হয়েছেন, তাতে বিতর্ক যে আরও দানা বাঁধবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
