চকচকে বাসনই কি ডাকছে মরণব্যাধি? ডিশওয়াশিং লিকুইড ব্যবহারের আগে সাবধান!
আসলে বাসন মাজার সাবান বা লিকুইড তৈরি হয় এক ধরনের রাসায়নিক দিয়ে, যার নাম ‘সারফ্যাক্ট্যান্ট’ (Surfactants)। আমরা যতই জল দিয়ে ধুই না কেন, বাসনের গায়ে এই সাবানের এক অদৃশ্য পাতলা আস্তরণ থেকেই যায়। বিশেষ করে প্লাস্টিক বা মেলামাইনের বাসনে এই স্তর আরও জেদি হয়।

আগের দিনে মা-ঠাকুমারা উনুনের ছাই কিংবা কালো সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে বাসন মাজতেন। সেই বাসনে খাবার খেলে পেটের রোগ তো দূর অস্ত, উল্টে এক অদ্ভুত তৃপ্তি পাওয়া যেত। কিন্তু সময় বদলেছে, উনুনের জায়গা নিয়েছে আধুনিক গ্যাস ওভেন। আর ছাইয়ের বদলে রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছে সুগন্ধী ডিশওয়াশিং লিকুইড। এক ফোঁটাতেই আয়নার মতো ঝকঝকে বাসন— বিজ্ঞাপনের এই মোহেই মজেছেন সকলে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই অতিরিক্ত ‘চমক’ আপনার শরীরে নিঃশব্দে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে? চিকিৎসকদের মতে, এই লিকুইড সাবান ব্যবহারের অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ।
কেন এই লিকুইড সাবান বিপদজনক?
আসলে বাসন মাজার সাবান বা লিকুইড তৈরি হয় এক ধরনের রাসায়নিক দিয়ে, যার নাম ‘সারফ্যাক্ট্যান্ট’ (Surfactants)। আমরা যতই জল দিয়ে ধুই না কেন, বাসনের গায়ে এই সাবানের এক অদৃশ্য পাতলা আস্তরণ থেকেই যায়। বিশেষ করে প্লাস্টিক বা মেলামাইনের বাসনে এই স্তর আরও জেদি হয়। যখনই সেই বাসনে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়, তাপের সংস্পর্শে এসে রাসায়নিকগুলো খাবারের সঙ্গে মিশে সরাসরি আমাদের পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়।
গবেষণা ও শারীরিক ঝুঁকি:
বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই লিকুইডগুলোতে ‘সোডিয়াম লরিল সালফেট’-এর মতো কড়া রাসায়নিক থাকে। এটি নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার এবং অন্ত্রের নানা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, লিকুইডের গন্ধে যে ‘থ্যালেটস’ (Phthalates) ব্যবহার করা হয়, তা শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার মনে হওয়া বাসনই হয়ে উঠছে বিষের আধার।
সুরক্ষিত থাকবেন কীভাবে?
সম্পূর্ণভাবে লিকুইড বন্ধ করা হয়তো সম্ভব নয়, তবে ব্যবহারের ধরণে বদল আনা জরুরি:
কখনও লিকুইড সরাসরি বাসনে ঢালবেন না। এক কাপ জলে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিয়ে তবেই মাজুন।
বাসন মাজার পর পরিষ্কার জলে বারবার ধুয়ে নিন যাতে কোনও আঠালো ভাব না থাকে।
যে স্পঞ্জ বা স্ক্রাবার দিয়ে মাজছেন, তা নিয়মিত বদলান। কারণ সেখানেও প্রচুর পরিমাণে সাবান এবং জীবাণু জমে থাকে।
প্রাকৃতিক বিকল্পই কি সেরা?
বাসন পরিষ্কার করতে লেবু এবং ভিনেগার অসাধারণ কাজ করে। বিশেষ করে বাসনের তেলচিটে ভাব কাটাতে এর জুড়ি নেই। এছাড়া পোড়া বা কালচে দাগ তুলতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। গ্রামবাংলার সেই পুরনো দিনের ‘রিঠা’ ফলও হতে পারে দারুণ বিকল্প। রিঠা ফল জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে বাসন মাজলে কোনো রাসায়নিকের ভয় থাকে না, অথচ বাসনও থাকে পরিষ্কার। তাই চকচকে রূপ দেখে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, বাসনের ঔজ্জ্বল্যের চেয়ে আপনার শরীরের সুস্থতা অনেক বেশি দামী।
