সদর দরজায় এই ১০ গাছ রেখেছেন? লক্ষ্মীর আশীর্বাদে সুখ উপচে পড়বে!
নামেই যার পরিচয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবেশপথে মানি প্ল্যান্ট লতিয়ে উপরের দিকে উঠলে তা বাড়িতে অর্থ ও সমৃদ্ধি টানে। এর বড় সুবিধা হল, এটি বাতাস থেকে বিষাক্ত টক্সিন শুষে নিয়ে ঘরকে সতেজ রাখে।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সদর দরজাটা খুললেই যদি একরাশ সবুজের ছোঁয়া পাওয়া যায়, তবে মনটা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু জানেন কি, বাড়ির এই প্রবেশপথ শুধু আসা-যাওয়ার রাস্তা নয়, বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী এটিই হল মা লক্ষ্মীর আগমনের পথ। তাই সদর দরজা যদি ঠিকঠাক সাজানো থাকে, তবে ঘরে পজিটিভ এনার্জির জোয়ার আসা কেউ আটকাতে পারবে না। দামী শো-পিস বা আসবাব নয়, স্রেফ কয়েকটা ছোট্ট চারাগাছই বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য। দূষণমুক্ত বাতাস আর মানসিক শান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধিও ঘটবে ম্যাজিকের মতো। দেখে নিন কোন ১০টি গাছ আপনার বাড়ির প্রবেশপথের জন্য সবচেয়ে শুভ।
তুলসী
যুগ যুগ ধরে ভারতীয় পরিবারে তুলসী গাছের স্থান সবার উপরে। একে শুধু পবিত্র মনে করা হয় তাই নয়, এটি প্রাকৃতিক এয়ার পিউরিফায়ার হিসেবেও কাজ করে। সদর দরজার কাছে একটি তুলসী মঞ্চ বা টব থাকলে নেগেটিভ শক্তি ঘরে ঢুকতে পারে না।
মানি প্ল্যান্ট
নামেই যার পরিচয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবেশপথে মানি প্ল্যান্ট লতিয়ে উপরের দিকে উঠলে তা বাড়িতে অর্থ ও সমৃদ্ধি টানে। এর বড় সুবিধা হল, এটি বাতাস থেকে বিষাক্ত টক্সিন শুষে নিয়ে ঘরকে সতেজ রাখে।
স্নেক প্ল্যান্ট
যাঁদের গাছ দেখাশোনা করার একদম সময় নেই, তাঁদের জন্য স্নেক প্ল্যান্ট আদর্শ। এটি রাতেও অক্সিজেন সরবরাহ করে। বাড়ির প্রবেশপথের এক কোণে অল্প আলোতেও এই গাছ খুব সুন্দর মানিয়ে যায়।
অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা শুধু ত্বকের যত্নে নয়, বাস্তু দোষ কাটাতেও অদ্বিতীয়। কথিত আছে, সদর দরজায় অ্যালোভেরা গাছ থাকলে তা বাইরের কু-দৃষ্টি থেকে বাড়িকে আড়াল করে রাখে। এটি দেখতেও বেশ আধুনিক ও ছিমছাম।
লাকি ব্যাম্বু
ফেংশুই এবং বাস্তু—উভয় শাস্ত্রেই লাকি ব্যাম্বুকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। ফ্ল্যাটের সদর দরজায় যেখানে খুব একটা রোদ পৌঁছায় না, সেখানে কাঁচের পাত্রে জল দিয়ে এই গাছ রাখতে পারেন। এটি ঘরে ইতিবাচকতা ও শান্তি নিয়ে আসে।
অ্যারিকা পাম
বাড়ির সদর দরজাকে যদি একটু ‘লাক্সারি’ লুক দিতে চান, তবে অ্যারিকা পাম সেরা পছন্দ। এই গাছ শুধু লম্বায় বাড়ে না, এটি বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। আপনার বাড়ির প্রবেশপথ হয়ে উঠবে স্নিগ্ধ ও মনোরম।
পিস লিলি
সাদা ফুলের এই গাছটি দেখতে যেমন স্নিগ্ধ, কাজও তেমন। পিস লিলি বাতাসকে দ্রুত শুদ্ধ করে এবং গৃহস্থের মনে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। কাজের শেষে বাড়ি ফিরে এই স্নিগ্ধতা দেখলে ক্লান্তি নিমেষেই দূর হবে।
জেসমিন বা চামেলি
সদর দরজায় পা রাখলেই যদি চামেলির মিষ্টি গন্ধে মন ভরে যায়, তবে দিনটা ভালো যেতে বাধ্য। এই গাছ মানসিক চাপ কমায় এবং বাড়ির পরিবেশে রোম্যান্টিক ও পজিটিভ ভাইব তৈরি করে।
জেড প্ল্যান্ট
জেড প্ল্যান্টকে বলা হয় ‘ফ্রেন্ডশিপ ট্রি’ বা সৌভাগ্যের প্রতীক। এটি খুব অল্প জায়গায় বেড়ে ওঠে। জেড প্ল্যান্ট ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে বেনজিন এবং ফরমালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক শুষে নেয়। প্রবেশপথের তাকে বা ছোট স্ট্যান্ডে এটি সাজিয়ে রাখলে তা দেখতেও যেমন সুন্দর লাগে, তেমনই শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়।
গাঁদা
গ্রামের বাড়ি হোক বা শহরের বারান্দা—গাঁদা ফুল সবার প্রিয়। সদর দরজায় গাঁদা গাছ থাকলে তা যেমন উজ্জ্বল রঙে বাড়িকে সাজিয়ে তোলে, তেমনই এর গন্ধ মশা ও পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে।
