AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

শ্রীঘরে যেতে পারেন রণবীর সিং! ‘ধুরন্ধর’-এর ভাগ্যে কী?

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। উৎসবের মঞ্চে রণবীর সিং অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে ‘কান্তারা’ ছবির সেই বিখ্যাত ‘দৈব’ বা ‘ভুত কোলা’র ভঙ্গি নকল করতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, অভিনেতা ঋষভ শেঠির সামনেই তিনি বলে ফেলেন, "ঋষভ, তোমার অভিনয় দারুণ ছিল, বিশেষ করে যখন ওই 'মেয়ে ভূত'টা তোমার শরীরে ঢোকে!"

শ্রীঘরে যেতে পারেন রণবীর সিং! ‘ধুরন্ধর’-এর ভাগ্যে কী?
Image Credit: facebook
| Updated on: Mar 11, 2026 | 3:37 PM
Share

অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করা এক কথা, আর কারও আবেগের সঙ্গে জড়িত সামান্য ভুল পিছু ছাড়ে না সেলিব্রিটিরও। পর্দার ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতা রণবীর সিং এখন ঠিক এই সমস্যার মুখেই পড়েছেন। গত বছর গোয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFI) তাঁর করা একটি ছোট্ট ‘পারফরম্যান্স’ এখন রীতিমতো পুলিশি তদন্ত আর আদালতের দরজায় গিয়ে ঠেকেছে। ঋষভ শেঠির ‘কান্তারা’ ছবির প্রশংসা করতে গিয়ে এমন এক কাণ্ড তিনি করে বসেছেন, যা দক্ষিণ ভারতের মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে বড়সড় আঘাত দিয়েছে।

ঠিক কী হয়েছিল সেইদিন?

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। উৎসবের মঞ্চে রণবীর সিং অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে ‘কান্তারা’ ছবির সেই বিখ্যাত ‘দৈব’ বা ‘ভুত কোলা’র ভঙ্গি নকল করতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, অভিনেতা ঋষভ শেঠির সামনেই তিনি বলে ফেলেন, “ঋষভ, তোমার অভিনয় দারুণ ছিল, বিশেষ করে যখন ওই ‘মেয়ে ভূত’টা তোমার শরীরে ঢোকে!”

ব্যস, এই ‘মেয়ে ভূত’ শব্দটিই যত নষ্টের গোড়া। আসলে কর্ণাটকের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে এই ‘দৈব’ কোনও সাধারণ ভূত নয়, বরং তাঁদের অতি পবিত্র এক দেবতা। জুতো পরে মঞ্চে সেই দেবতাকে নকল করা এবং তাঁকে ‘ভূত’ বলে সম্বোধন করাকে স্থানীয়রা চরম অপমান হিসেবে দেখছেন।

শোনা গিয়েছে, রণবীর যখন মঞ্চে ওই ভঙ্গি করছিলেন, তখন দর্শকাসনে বসা ঋষভ শেঠি তাঁকে ইশারায় থামতে বলেছিলেন। কিন্তু রণবীর সম্ভবত সেই গাম্ভীর্য বুঝতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ঋষভ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের কাছে এই ঐতিহ্য কোনও সিনেমার বিষয় নয়, এটি একটি বিশ্বাস। তাই ভাইরাল হওয়ার নেশায় বিশ্বাসকে বিকৃত করা একেবারেই অনুচিত।

জানুয়ারিতে বেঙ্গালুরুতে রণবীরের নামে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ফেঁসে গিয়ে শেষমেশ কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় তাঁকে। আদালত আপাতত তাঁকে গ্রেফতারি থেকে রক্ষা করলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তদন্তের কাজে তাঁকে পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। রণবীর অবশ্য ইনস্টাগ্রামে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন যে তিনি কাউকে ছোট করতে চাননি।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই বিতর্কের মাঝেই রণবীরের ছবি ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে ১৩০০ কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা করেছে। এখন যখন ১৯ মার্চ এই ছবির দ্বিতীয় পার্ট ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির অপেক্ষায়, তখন পুরনো এই আইনি ঝামেলা রণবীরের পিছু ছাড়ছে না। পর্দার ‘হামজা’ বাস্তব জীবনের এই বিপদ থেকে কীভাবে মুক্তি পান, এখন সেটাই দেখার।

Follow Us