Cheque Bounce Case: রাজপাল যাদবকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট, না মানলেই যেতে হবে জেলে
Rajpal Yadav Cheque Bounce Case: চেক বাউন্স মামলায় অবশেষে বড় পদক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর অভিনেতার জেলযাত্রা যখন প্রায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় নিল গোটা ঘটনা। তবে তাঁকে বাঁচানোর পেছনে এমন এক বিরাট শর্ত জুড়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সবার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কি এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন অভিনেতা, নাকি সত্যি তাঁর ঠিকানা হতে চলেছে শ্রীঘর?

রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) পর্দায় এলেই দর্শকের মুখে চওড়া হাসি ফোটে। কিন্তু মজার মজার সংলাপ বলে সবাইকে হাসানো এই মানুষটির কপালে এখন গভীর চিন্তার ভাঁজ। চেক বাউন্স মামলায় এবার তাঁকে নিয়ে অনেক বড় নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর শ্রীঘরে যাওয়া প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাঁচতে শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে ছুটে গিয়েছিলেন অভিনেতা। শীর্ষ আদালত তাঁকে আপাতত জেলে যাওয়া থেকে সাময়িক রেহাই দিলেও ঝুলিয়ে দিল এক বিরাট শর্ত। বুধবারের মধ্যে আদালতের রেজিস্ট্রিতে নগদ ৫ কোটি টাকা জমা করতে হবে। তা না পারলে জেলযাত্রা ঠেকানো যাবে না।
কী কী ঘটে রাজপালের সঙ্গে?
পুরো গন্ডগোলের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। নিজের তৈরি ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ শেষ করার জন্য মুরলী প্রজেক্টস নামের এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু ছবি মুক্তির সময় পিছোতে থাকে। ওদিকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য যে চেকগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো একের পর এক বাউন্স করে। ব্যস, জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ওই সংস্থা রাজপালের বিরুদ্ধে মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা ঠুকে দেয়।
এরপর শুরু হয় লম্বা আইনি টানাপোড়েন। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত রাজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে সাজা কিছুটা কমিয়ে তিন মাসের জেল আর প্রতি মামলায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেশন কোর্ট হয়ে মামলা পৌঁছায় দিল্লি হাইকোর্টে। কিন্তু চলতি বছরের ১০ জুলাই হাইকোর্টও সেই সাজা পুরোপুরি বহাল রাখে। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজপালকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল বেশ কড়া। আদালত স্পষ্ট জানায়, দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি পুরো বকেয়া টাকা মেটাননি। মামলার চলাকালীন অভিনেতা প্রায় ২.২৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরে আর বাকি টাকা দিতে রাজি হননি। এই আচরণের জন্য আদালত তাঁকে কোনওরকম বিশেষ ছাড় বা রেহাই দিতে সরাসরি নাকচ করে দেয়।
১০ সেপ্টেম্বরের ডেডলাইনের মুখে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জরুরি শুনানির জন্য আবেদন করেন রাজপাল। অভিনেতার আইনজীবীর দাবি, ২০১৩ সালেই দু’পক্ষের মধ্যে আপস হয়ে গিয়েছিল। তাই পুরনো চেক বাউন্সের মামলাগুলো আর চলতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট সব কথা শুনলেও স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, টাকা না দিলে কোনও কথা শোনা হবে না। বুধবারের মধ্যে ৫ কোটি টাকা জমা পড়লে তবেই গ্রেফতারির নির্দেশ পিছিয়ে যাবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এখন দেখার, হাতে থাকা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই বিপুল টাকা রাজপাল জোগাড় করতে পারেন কি না।
