অফিসে মজুত লক্ষাধিক টাকার মাদক! গ্রেফতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী
এই বড়সড় সাফল্যের নেপথ্যে ছিল গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক তদন্ত। নেসাপাক্কাম এলাকা থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভিগনেশ্বরন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পরেই এই সুতোর হদিশ মেলে। ভিগনেশ্বরনকে জেরা করে জানা যায় কোভুরের ভেঙ্কটেশ কুমারের নাম।

রুপোলি পর্দার চাকচিক্যের আড়ালে কি তবে নিষিদ্ধ মাদকের কারবার? দক্ষিণী অভিনেত্রী কৃষ্ণা অঞ্জুমের গ্রেপ্তারি ঘিরে এখন এই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে চেন্নাইয়ের বিনোদন জগতে। বৃহস্পতিবার চেন্নাই পুলিশের বিশেষ শাখা ‘অ্যান্টি-নারকোটিক্স ইনটেলিজেন্স ইউনিট’ (NIU)-এর এক ঝটিকা অভিযানে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর। কেবল কৃষ্ণা নন, তাঁর অফিস থেকে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ৮ জনকেও পাকড়াও করেছে পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কৃষ্ণা অঞ্জুমের অফিসে তক্কে তক্কে ছিলেন আধিকারিকরা। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে যখন হানা দেওয়া হয়, তখন সেখানে যা পাওয়া যায় তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। উদ্ধার হয়েছে, মেথামফটেমিন: ৬ গ্রাম, ওজি গাঁজা: ৭ গ্রাম, সাধারণ গাঁজা: ১৫ গ্রাম,এলএসডি (LSD): একটি স্ট্যাম্প, মাদক ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে ৯টি স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই ফোনগুলোতেই লুকিয়ে আছে শহরের নামী-দামী খদ্দেরদের তালিকা।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বড়সড় সাফল্যের নেপথ্যে ছিল গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক তদন্ত। নেসাপাক্কাম এলাকা থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভিগনেশ্বরন নামে এক যুবককে গ্রেফতারের পরেই এই সুতোর হদিশ মেলে। ভিগনেশ্বরনকে জেরা করে জানা যায় কোভুরের ভেঙ্কটেশ কুমারের নাম। সেই ভেঙ্কটেশই ছিল মূল যোগসূত্র, যার সূত্র ধরে পুলিশ সোজা পৌঁছে যায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৃষ্ণা অঞ্জুমের দপ্তরে।

অভিনেত্রীর সঙ্গেই গ্রেপ্তার হওয়া বাকিদের তালিকায় রয়েছেন অঞ্জু কৃষ্ণা, ভিন্সি নিবেধা, কার্তিক রাজা, যশবন্ত, শ্রীরাম, আলভিবিনশা এবং ভেঙ্কটেশ কুমার। পুলিশ মনে করছে, এটি কোনও ছোটখাটো বিষয় নয়, বরং শহরের প্রভাবশালী ও উচ্চবিত্ত মহলে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে।
দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কৃষ্ণা অঞ্জুমের যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। তাঁর মতো একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর নাম এভাবে মাদককাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় ভক্তমহলে যেমন শোকের ছায়া, তেমনই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। অভিযুক্তদের থেকে উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো এখন ফরেনসিক পরীক্ষার অপেক্ষায়, যেখান থেকে বড় কোনো রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসে কি না— সেদিকেই তাকিয়ে প্রশাসন।
