PM Narendra Modi: ‘রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার করতে হবে’, ব্রিকস সম্মেলন থেকে দাবি প্রধানমন্ত্রীর
PM Modi Speech in BRICS Summit: নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপম থেকে শুরু হল সম্মেলন। শুরুতেই সব রাষ্ট্রনেতাদের স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই মোদী বলেন, 'ভারত মানবতার পক্ষে। সবাইকে একসঙ্গে চলার পক্ষে ভারত।" একইসঙ্গে সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের সওয়াল তুললেন তিনি। ব্রিকস সম্মেলন থেকে ১০টি প্রস্তাবও দিলেন তিনি।

নয়া দিল্লি: ব্রিকসের (BRICS Summit) মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ব্রিকসের সদস্য দেশগুলিকে সম্মিলিতভাবে প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে আগামী ২০ বছরের কথা মাথায় রেখে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)।
আজ থেকে শুরু হল ব্রিকস সামিট। নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপমে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা। এদিন সম্মেলনের শুরুতেই রাষ্ট্রনেতাদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর ব্রিকসের মঞ্চ থেকে বন্ধুত্বের বার্তা দেন তিনি। মোদী বলেন, ‘ভারত মানবতার পক্ষে। সবাইকে একসঙ্গে চলার পক্ষে ভারত।”
বিশ্ব ব্যবস্থার সংস্কারে মোদীর ১০ প্রস্তাব
বিশ্বের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার আনার লক্ষ্যে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সামনে প্রস্তাব রেখেছেন মোদী। তিনি বলেন, “আমার প্রস্তাব, বিশ্ব প্রশাসনের সংস্কারের জন্য আমরা একসঙ্গে ১০টি প্রস্তাব তৈরি করি। যাতে আগামী ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে সেগুলিকে ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ-এর রূপ দেওয়া যেতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, আগামী ২০ বছরের কথা মাথায় রেখে নতুন ও আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে একটি অ্যাজেন্ডা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাজের পদ্ধতি থেকেই এই প্রক্রিয়ার শুরু করতে হবে। আর তার জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন।আর এই রোডম্যাপ তৈরির সময় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনটি বিষয় হল প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি এবং নিয়ম প্রণয়ন।
মোদীর বক্তব্য, প্রতি বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব বদলালেও তার প্রভাব যেন সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের গতির উপর না পড়ে। এই লক্ষ্যেই ব্রিকসের জন্য ‘কন্টিনিউটি অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন মেকানিজম’ বা ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন মোদী। তাঁর মতে, এর ফলে ব্রিকসের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর ধারাবাহিক নজর রাখা সম্ভব হবে।
ব্রিকসের মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি তুলেছেন মোদী। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার আর পিছিয়ে দেওয়া উচিত না।” তাঁর মতে, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে সেই আলোচনার স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ফলাফলও নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বদলের সওয়াল
শুধু রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ নয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাঠামোতেও পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোটদানের ক্ষমতা, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং নীতি নির্ধারণের অগ্রাধিকার বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
মোদী বলেন, “যে দেশগুলি বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সেই দেশগুলিকে যথাযথ ভূমিকা দিতে হবে।”
