
নয়া দিল্লি: প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড সংক্রমণে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। গত বছর মার্স মাসে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম একদিনে এত সংখ্যক মানুষ করোনা সংক্রমিত হলেন। এই নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৫-এ পৌঁছল। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৮৩৯ জনের। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে জারি হয়েছে নৈশ কার্ফু। মহারাষ্ট্রে চলছে সপ্তাহন্তে লকডাউন।
একদিনের করোনা সংক্রমণে (COVID-19) রোজই রেকর্ড তৈরি হচ্ছে বাংলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হলেন ৪ হাজার ৩৯৮ জন। দ্বিতীয় দফার করোনা ঢেউয়ে মৃত্যুতেও রেকর্ড। একদিনে করোনা প্রাণ কেড়েছে ১০ জনের। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, ক্রমেই লাগামছাড়া হচ্ছে করোনা। বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যু।
বিস্তারিত পড়ুন: দৈনিক মৃত্যুতে কলকাতাকে ছাপিয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনা! সংক্রমণেও হাজার পার
এ দিন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে পঞ্জাব, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্নাটক, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে। সেই রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার বেশি পুরনো হলে গ্রাহ্য করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে টিকা উৎসবের ডাক দিয়েছেন। আজ থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল অবধি চলবে এই টিকাকরণ কর্মসূচি। মধ্য প্রদেশের একাধিক হাসপাতালে দেখা গেল টিকা নেওয়ার লম্বা লাইন।
বাকি রাজ্যের মতো এ বার উত্তর প্রদেশেও জারি হচ্ছে নৈশ কার্ফু। তবে আপাতত গোটা রাজ্য নয়, জেলা ভিত্তিক কার্ফু জারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে আগামী ৩০ এপ্রিল অবধি সমস্ত স্কুল বন্ধের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বিস্তারিত পড়ুন: জেলা ভিত্তিক নৈশ কার্ফু, দৈনিক ১ লাখ পরীক্ষা, করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর যোগীরাজ্যও
প্রতিবেশী রাজ্য ছত্তীসগঢ়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতেই তড়িঘড়ি রাজ্যের সীমান্ত বন্ধ করে দিল ওড়িশা সরকার।
মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গতকালই সর্বদলীটয় বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কিছু না জানালেও শীঘ্রই লকডাউন জারি হতে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিস্তারিত পড়ুন: ‘আজ লকডাউন নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে, কাল..’, টুইট বার্তায় কীসের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
দিল্লিতে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি গত বছরের নভেম্বর মাসে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। তিনি ফের একবার কেন্দ্রকে টিকাকরণের বয়সসীমা তুলে দেওয়ার অনুরোধও জানান।
বিস্তারিত পড়ুন: ‘তৃতীয় ঢেউয়ের থেকেও ভয়াবহ’, টিকাকরণে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার ফের আর্জি কেজরীবালের
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ়, কর্নাটক, উত্তর প্রদেশ, কেরল- এই পাঁচ রাজ্য থেকেই দেশে ৭২ শতাংশ আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। এরমধ্যে ৫০ শতাংশ আক্রান্তই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা।