
দেশে ফের বাড়ল করোনা সংক্রমণ। সংক্রমণের দাপাদাপি রুখতে টোটাল লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিল কেরল এবং মধ্য প্রদেশ সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লক্ষ ১২ হাজার ২৬২ জন। একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৩৯৮০ জনের। এটিই এখনও অবধি দেশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও অবধি দেশে মোট ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪১০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এরমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৮৪৪ জন। বর্তমানে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৯৮। করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট দেখে নিন একনজরে-
করোনা সংক্রমণ রুখতে এ বার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল কেরল এবং মধ্য প্রদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার প্রথমে কেরলে আগামী ৮ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন জারি করা হয়। এরপর বিকেলে শিবরাজ সিং প্রশাসনও ঘোষণা করে, সংক্রমণ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত লকডাউন জারি করা হয়েছে মধ্য প্রদেশেও। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যগুলিকে বলেছিলেন, লকডাউনকে যেন শেষ বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। সেই শেষ প্রকল্প প্রয়োগ করল এই দুই রাজ্য। দিল্লিতেই বর্তমানে জারি রয়েছে লকডাউন।
টিকরি সীমান্তে কৃষকরা
নয়া দিল্লি: করোনা (COVID19) কাবু করেছে গোটা দেশকে। তবু ভাঙতে পারেনি কৃষকদের মনোবল। তিনটি কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের (farm Laws) বিরুদ্ধে এখনও সরব তাঁরা। তিকরি সীমান্তে তাঁবু ছেড়ে ঘর বানিয়েও থাকতে শুরু করেছেন অনেকে। কিন্তু সেই সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলনে বাধ সেধেছে করোনা। এ বার কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বঙ্গতনয়া মমিতা। শোকের ছায়া তিকরিতে।
বিস্তারিত পড়ুন: দিল্লি সীমান্তে অব্যাহত কৃষি আন্দোলন, থাবা করোনার, মারা গেলেন বিক্ষোভকারী বঙ্গতনয়া মমিতা
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন তোলপাড় দেশ, সেইসময়ই এক অদ্ভুত খবর এসেছিল সামনে। জানা গিয়েছিল, যোগীরাজ্যে একাধিক গোবলয়ে থার্মাল স্ক্রিনিং, অক্সিমিটারের ব্যবস্থে করা হচ্ছে। গরুরা যাতে সংক্রমণ মুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে হেল্প ডেস্ক তৈরির নির্দেশও দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার। পরে যোগী সরকারের তরফেই সাফাই দিয়ে জানানো হল, গোবলয়গুলিতে থার্মাল স্ক্রিনিং ও অক্সিমিটারের ব্যবস্থা করতে বলা হলেও তা গরুদের জন্য নয়, বরং সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্যই ব্য়বস্থা করা হয়েছে। এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে।
বিস্তারিত পড়ুন: যোগীরাজ্যে গোশালায় থার্মাল স্ক্যানার-অক্সিমিটার, বিতর্ক শুরু হতেই সাফাই সরকারের
একাধিক রাজ্যে দেখা দিয়েছে করোনা টিকা সঙ্কট। যদিও কেন্দ্রের তরফে এরজন্য টিকা নষ্ট করাকেও দায়ী করা হয়েছে। তবে ঠিক বিপরীত চিত্রই কেরলে। সেখানে নষ্ট করা হয়নি করোনা টিকার একটি ডোজ়ও। রাজ্যের এই কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে মোট ৭৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮০৬ ডোজ় করোনা ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছিল। এখনও অবধি ৭৪ লক্ষ ২৬ হাজার ১৬৪ ডোজ় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল রাজ্যবাসীকে।
বিস্তারিত পড়ুন: নষ্ট হয়নি করোনা টিকার একটি ডোজ়ও, কেরলের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী
ফাঁকা হাসপাতাল চত্বর, গোটা হাসপাতাল ঘুরলেও দেখা মিলবে না একজন চিকিৎসক বা নার্সের। রোগীর পরিবার চিকিৎসকের খোঁজে আইসিইউতে ঢুকতেই আঁতকে উঠলেন। কারণ একের পর এক বিছানায় কেবল মৃতদেহই পড়ে রয়েছে করোনা রোগীদের। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, অক্সিজেনের অভাবে ছয়জন রোগীর মৃত্যু হওয়ার পরই হাসপাতাল ছেড়ে পালান চিকিৎসক, নার্স।
বিস্তারিত পড়ুন: আইসিইউতে পড়ে রয়েছে ৬ করোনা রোগীর মৃতদেহ, ক্যান্টিনে লুকিয়ে চিকিৎসক-নার্সরা!
করোনা সংক্রমণের দ্রুত বৃদ্ধিতে দিল্লি, মুম্বইয়েও ছাপিয়ে যাচ্ছে কর্নাটক। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজারেও বেশি, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এরমধ্যে অর্ধেকই আবার রাজধানী বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা।
বিস্তারিত পড়ুন: দৈনিক আক্রান্তে ৫০ হাজারের রেকর্ড কর্নাটকে, ভিন্ন বিদেশি স্ট্রেন সামলাতে নাজেহাল রাজ্য
দিল্লির লোধি কলোনীর একটি রেস্তরাঁ কাম বার থেকে উদ্ধার হল ৪১৯টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। এগুলি ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত চার ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতেই লকডাউন ঘোষণা করলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি জানান, আগামী ৮ মে ভো ছ’টা থেকে ১৬ মে অবধি রাজ্যজুড়ে লকডাউন জারি থাকবে। ছাড় দেওয়া হবে কেবল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও জরুরী পরিষেবার ক্ষেত্রে।
মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল সে রাজ্যে ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখনও অবধি একদিনে মৃতের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছিল ৪১৪ জনের, অর্থাৎ একদিনেই এক লাফে দ্বিগুণ সংখ্যক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বিস্তারিত পড়ুন: একদিনেই মৃত ৯২০, লকডাউনে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও রেকর্ড হারে মৃত্যু চিন্তা বাড়াচ্ছে মহারাষ্ট্রে
করোনা সংক্রমণ এ বার এগোচ্ছে পূর্বদিকে। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কোভিড বৈঠকে অসম, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আচমকা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে পর্যালোচনা করে জানানো হয় যে দিল্লি, মহারাষ্ট্র থেকে এ বার পূর্বের রাজ্যগুলির উপরও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে চলেছে।
করোনার ভয়ে এ বার জেল থেকে জামিন বা প্যারোলে মুক্তি পাবেন ২৮০ জন বন্দি। এই বিষয়ে জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান, নিয়মিত জেল চত্বর স্যানিটাইজ করা হয়। বন্দিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাড়াও খাওয়ানো হচ্ছে এবং ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী সমস্ত বন্দিদের ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছে।