SC On SIR: এবার ভোট দিতে না পারার অর্থ এমন নয় যে ভোটাধিকার চলে গেল, বলল সুপ্রিম কোর্ট
SC On SIR: প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তাঁরা। চিঠিতে জানানো হয়েছে ৪৭ লক্ষ কেসের সমাধান হয়েছে। প্রত্যেক দিন ২ লক্ষ কেসের সমাধান করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত কেসের সমাধান হয়ে যাবে। ২০ মার্চ কমিশন অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল গঠন করেছে।

নয়া দিল্লি: ৭ এপ্রিলের মধ্যে বিবেচনাধীন সমস্ত ভোটারের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিল। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তাঁরা। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ৪৭ লক্ষ কেসের সমাধান হয়েছে। প্রত্যেক দিন ২ লক্ষ কেসের সমাধান করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত কেসের সমাধান হয়ে যাবে। ২০ মার্চ কমিশন ‘অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল’ গঠন করেছে।
এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রত্যেককে সাম্মানিক অর্থ, অন্যান্য খরচ কমিশনকে বহন করতে হবে। কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু তখন আদালতে বলেন, “এ বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছি।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাইবুনালও দ্রুত কাজ শুরু করবে। সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের আইনজীবী জানান, আজ প্রশিক্ষণ চলছে, বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
তখন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন বলেন, “প্রাক্তন বিচারপতিদের কমিশন কেন প্রশিক্ষণ দেবে? প্রাক্তন বিচারপতিদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না।” তাঁর সংযোজন, “এই বিচারকদের এমন একটি কাজ করতে বলা হয়েছে, যা তাঁরা আগে করেননি। তবে তাঁদের নিরপেক্ষতা বা পক্ষপাতহীনতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “যেখানে নথির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকবে, সেখানে ট্রাইবুনাল তা যাচাই করবে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলেন, ” এটা প্রশিক্ষণ নয়, এটা হচ্ছে কীভাবে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বিবেচনা করতে হবে। যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা সকলে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। আমাকে হঠাৎ করে একটা নতুন ল্যাপটপ দিলে কী করে সেটা কাজ করে তা বুঝতে পারব না।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের বিরাট অভিজ্ঞতা রয়েছে। কমিশনের আধিকারিকরা হস্তক্ষেপ করছে বলে আপনাকে উদ্বিগ্ন হতে হবে না।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কমিশনকে নির্দেশ দেন, “কোনও ব্যক্তি যখন আবেদন করছেন, তখন তার সম্পর্কে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তার কারণ উল্লেখ করে রিমার্কস দিতে হবে।”
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও আবেদনকারী যে কাগজপত্র জমা দেবেন, তার ভিত্তিতে ট্রাইবুনাল যেন সিদ্ধান্ত নেন।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “ট্রাইবুনালের দায়িত্বে যে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিরা রয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে আমাদের কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু তাদের এমন একটি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যে কাজ আগে তাঁরা কখনও করেননি।” কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি জানতাম না যে সফটওয়্যারে এমন একটি কলাম আছে, যেখানে কারণ দর্শানোর সুযোগ আছে। প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার কারণ সেখানে উল্লেখ করা হোক।”
কমিশনের আইনজীবী তখন বলেন, “আমরা অ্যাপলেট বডির সামনে সমস্ত রেকর্ড রাখব।”
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “যেখানে কোন ডকুমেন্টসের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তা ভেরিফাই করা হবে।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “সফটওয়্যারে কারণ দর্শানোর জন্য একটি কলাম আছে। কেন নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বা বাদ যাচ্ছে, তা উল্লেখ করার সুযোগ রয়েছে। যে ব্যক্তি আবেদন করছেন, তাঁকে কারণ উল্লেখ করতে হবে।”
কথা প্রসঙ্গেই বিচারপতি বলেন, “কীসের ভিত্তিতে এই ভোট হচ্ছে তা আমরা দেখতে চাই। কোন ব্যক্তি যদি ভোট দিতে না পারেন, সেটা তার সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়। কোন ব্যক্তির নাম বাদ যেতে পারে কিন্তু পরে অ্যাপেলেট তার নাম যুক্ত করতে পারে। একইভাবে কোন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে তার নাম বাদ যেতে পারে অ্যাপলেট এর মাধ্যমে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলে তার অর্থ এই নয় যে তার ভোটাধিকার চিরকালের জন্য চলে গেল।”
এরপরই উঠে আসে কমিশনের অফিসে বিপুল পরিমাণ ফর্ম ৬ পাওয়ার বিষয়টি। এটি সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?”
প্রধান বিচারপতি তখন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলবেন না।”
তখন কমিশনের আইনজীবী নাইডু বলেন, “নিয়মে বলা হয়েছে মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। এমনকি যাঁর আজ আঠারো বছর বয়স হচ্ছে, তিনিও আবেদন করতে পারেন। কারোর অধিকার এক্ষেত্রে আটকানো যায় না।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এক্ষেত্রে যে দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নাম তোলার শেষ দিন বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, সেই দিনের মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁরা থাকবেন। বাকিদের নাম ভোটার তালিকায় উঠতে পারে কিন্তু তারা ভোটাধিকার পাবেন না।”
প্রধান বিচারপতি প্রথমে জানান পরবর্তী শুনানি হবে ৭ এপ্রিল বিকেল চারটের সময়। কারণ কলকাতা হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা হবে। সে কারণেই তারপর শুনানি। তখন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আবেদন জানান, ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি হোক। ততদিনে ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হয়ে যাবে এবং বোঝা যাবে যে ট্রাইবুনাল কীভাবে কাজ করছে।
এদিন আদালতে বিবেচনাধীন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কথাও উঠে আসে। আদালতে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। কোন ব্যক্তি যার নাম বাদ গিয়েছে কিন্তু তিনি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তিনি আবেদন করতে পারবেন। তার আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।এক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে, সেই বিষয়ে নিষ্পত্তি করার জন্য অ্যাডভোকেট জেনারেলকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানালেন মেনকা গুরুস্বামী।
এ বিষয়ের জন্য ট্রাইবুনালের কাছে আবেদন জানানোর জন্য নির্দেশ দিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তাঁর পর্যবেক্ষণ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় হিংসার ঘটনায় ১৬৮ টি ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করা হয়নি বলে সনাতনী সংসদের আইনজীবী ভিভি গিরি অভিযোগ করেন। মাত্র ২.৮৮ শতাংশ অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে তাহলে সিবিআইকে যুক্ত করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তারা কি পদক্ষেপ করেছেন তা জানতে হবে। এ বিষয়ে অন্য কোন দিন তালিকাভুক্ত করার জন্য আবেদন করলেন আইনজীবী গোপাল সুব্রাহ্মমণ্যম।
এদিনের মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ,
১. জুডিশিয়াল অফিসারদের সম্মানিক অর্থ, পরিবহনের খরচ অন্যান্য পরিকাঠামো কত খরচ কমিশনকে দিতে হবে।
২. ২০ মার্চ ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠনের কথা জানানো হয়েছে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিরা দায়িত্বে আছেন। জলশক্তি ভবনের অফিসে ট্রাইবুনাল তৈরি হচ্ছে। আট সপ্তাহের জন্য ব্যবহার করা হবে। অনুমতি নেওয়া হয়েছে। অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল কলকাতায় কাজ করবে।
৩. বিচারকদের প্রশিক্ষণের কাজ বুধবারের মধ্যে শেষ হবে। অনলাইন এবং অফলাইন আবেদন কী কী জমা পড়েছে, তার সম্পর্কে আপডেট বিচারকদের কাছে থাকবে। ট্রাইবুনালের কাছে আবেদনকারীর জমা দেওয়া তথ্য ও রেকর্ড থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইবুনালের আরও বিকল্প জায়গা তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে কমিশন ‘এক্সটেনশন’ চাইতে পারে।
৪. প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, যাঁদের নাম বিচারাধীন, কেন তাঁদের নাম বাদ গেল সেই বিষয়ে কারণ দর্শানো হয়নি। কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছেন, অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালের কাছে কোন ব্যক্তির নাম কেন বাদ গিয়েছে বা যুক্ত হয়েছে, সেই সম্পর্কে কারণ উল্লেখ করে সব তথ্য থাকবে। কোন কেসের বিচার করার সময় আপেলেট ট্রাইব্যুনালের হাতে যাতে সব তথ্য থাকে এ বিষয়ে বিচারকদের দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
৫. অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল কীভাবে কাজ করবে তা তারা নিজেরা ঠিক করবে।
৬. প্রত্যেক জমা দেওয়ার নথি ভেরিফাই করতে হবে।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব মামলা নিষ্পত্তি হবে। তাই পরবর্তী শুনানি ৬এপ্রিল নির্ধারিত করে সুপ্রিম কোর্ট।
