যমে-মানুষে লড়াই, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে উত্তাল সমুদ্র থেকে ৬০ জনকে বাঁচাল নৌ-সেনা

বিবেক বলেন, "বোম্বে হাই এরিয়ার হীরা অয়েল ফিল্ড থেকে বার্জ পি৩০৫ থেকে সাহায্যের আর্জি পাওয়ার পরই রওনা দেয় আইএনএশ কোচি।"

যমে-মানুষে লড়াই, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে উত্তাল সমুদ্র থেকে ৬০ জনকে বাঁচাল নৌ-সেনা
ছবি - টুইটার

মুম্বই: প্রবল ঘূর্ণিঝড় তাউটের (Tauktae) মাঝেই মুম্বই উপকূলে মাঝ সমুদ্রে আটকে পড়েছিল বার্জ। উত্তাল সমুদ্রে প্রাণ সংশয়ে পড়েছিলেন ২৭৩ জন। ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেই উদ্ধারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌ-সেনা। বার্জটিকে উদ্ধার করতে যায় আইএনএস কোচি, আইএনএস তলোয়ার ও আইএনএস কলকাতা। অবশেষে রাত ১১ টার সময়ে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৬০ জনকে প্রাণে বাঁচিয়ে নিয়ে আসে নৌ-সেনা। নৌ-সেনার মুখপাত্র কম্যান্ডার বিবেক মাধওয়াল জানিয়েছেন, বাকিদের উদ্ধারের জন্য সারা রাত ধরে উদ্ধারকার্য চলেছে।

বিবেক বলেন, “বোম্বে হাই এরিয়ার হীরা অয়েল ফিল্ড থেকে বার্জ পি৩০৫ থেকে সাহায্যের আর্জি পাওয়ার পরই রওনা দেয় আইএনএশ কোচি।” এরপর উদ্ধারে নামে আইএনএস তলোয়ার। সবশেষে আবার সাহায্যের আর্জি আসায় উদ্ধারের কাজে নামে আইএনএস কলকাতা। নৌ-সেনার তিনটি রণতরী ছাড়াও উদ্ধারে হাত লাগায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গুজরাট উপকূলে আছড়ে পড়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় তাউটে। মধ্যরাত পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কেরল ও কর্নাটকে। মধ্যরাতের পর কিছুটা শান্ত হয় তেজি তাউটে। পরবর্তীকালে ক্ষমতা হারিয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তাউটে। কিন্তু সাড়ে ৮টা থেকে মধ্যরাত, এই সময়ের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান চালায় নৌ-সেনা। কার্যত ঘূর্ণিঝড়ের চোখ থেকে ৬০ জনকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসে নৌ-সেনা।

তাউটে কমপক্ষে ২১টি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তাউটের তাণ্ডবে মহারাষ্ট্রে ৬ জনের মৃত্যু ও ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। কর্নাটকে তাউটের চোখরাঙানিতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ জেলার ১২১টি গ্রাম। কেরলে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সে রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ১,৫০০ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়ছে বলে জানিয়েছেন পিনারাই বিজয়ন।

আরও পড়ুন: তাউটের তাণ্ডবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু, ঘরছাড়া অগণিত