Sudha Murty: ‘জীবনে আর কখনও এই ভুল করবেন না’, টাকা দিতে চাইতেই সুধা মূর্তিকে এ কথা বলেছিলেন অন্ধ পুরোহিত
Sudha Murty: পুরোহিতের পরিবারের পরিস্থিতি দেখে তাঁকে আর্থিক সাহায্য করার কথা ভবেন সুধা মূর্তি। পুরোহিত আরতি করার পর তাঁর হাতে ১০০ টাকা দেন। ওই টাকাটাই নিতে ইতস্তত বোধ করছিলেন পুরোহিত।

নয়া দিল্লি: লেখিকা তথা রাজ্য়সভার সাংসদ সুধা মূর্তি কাজের সূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন। সমাজসেবার কাজে নানা স্তরের মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। সাক্ষাৎকারে সে সব অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে নিয়েছেন সুধা মূর্তি। একসময় এক অন্ধ পুরোহিতের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর। তামিলনাড়ু সফরে গিয়ে ওই পুরোহিতের সঙ্গে তাঁর যে কথোপকথন হয়েছিল, তা জানতে অবাক হতে হয়। সম্পদ বা ঐশ্বর্য নিয়ে সরাসরি এক কঠিন সত্যি কথা বলেছিলেন ওই পুরোহিত, যা অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতো।
তামিলনাড়ুর স্বামী মালয়ের কাছে একটি কাজে গিয়েছিলেন সুধা মূর্তি। একদিন সন্ধ্যায় তাঁর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন তাঁর চালক তাঁকে কাছাকাছি অবস্থিত একটি মন্দিরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ফাঁকা জায়গায় ওই একটি মন্দিরই ছিল ভরসা। সেখানে গিয়ে সুধা মূর্তি দেখেন, অন্ধ পুরোহিত ও তাঁর স্ত্রী রয়েছেন। তাঁরা আদরের সঙ্গে আপ্যায়ন করেন সুধা মূর্তিকে।
ওই পুরোহিতের পরিবারের পরিস্থিতি দেখে তাঁকে আর্থিক সাহায্য করার কথা ভবেন সুধা মূর্তি। পুরোহিত আরতি করার পর তাঁর হাতে ১০০ টাকা দেন। ওই টাকাটাই নিতে ইতস্তত বোধ করছিলেন পুরোহিত। পরে সুধা মূর্তি সাহায্য করার জন্য পুরোহিতের নাম, যোগাযোগর ঠিকানা জেনে নেন। তিনি চেয়েছিলেন, আর্থিক সাহায্য হিসেবে ২০,০০০ টাকা পাঠাবেন তিনি, যাতে ওই পুরোহিতের পরিবারের কিছুটা সুবিধা হয়।
সেই সাহায্য নিতে অস্বীকার করে ওই পুরোহিত বলে ওঠেন, আমি জানি না আপনি কে, তবে একটা কথা বলতে চাই, জীবনে আর কখনও এই ভুল করবেন না।
চমকে যান সুধা মূর্তি। তিনি জানতে চান, বৃদ্ধ পুরোহিত কেন এ কথা বলছেন। উত্তরে পুরোহিত বলেন, আমি যদি টাকাটা নিই, তাহলে ওটা আমার ওপর বোঝা হয়ে যাবে। গ্রামবাসীরাই আমার দেখভাল করেন। কিন্তু আজ যদি আমার ব্যাঙ্কে বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে ২০,০০০ টাকা থাকে, তাহলে হয়ত গ্রামবাসীরা ওই টাকাটা নেওয়ার জন্য আমার মৃত্যুকামনা করবে। আর কেউ আমাদের সাহায্য করবে না। তিনি আরও বলেছিলেন, ভগবান আমাদের যা দিয়েছেন, তা অনেক। জীবনে একটা সীমারেখা টানতে জানা জরুরি।
অর্থাৎ জীবনে অতিরিক্ত কিছু থাকার বিপদ যে কতটা, সেটা সে দিন উপলব্ধি করেছিলেন সুধা মূর্তি।
