Singur-Modi: টাটাকে সেদিন ১ টাকার একটা SMS পাঠিয়েছিলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মোদী, আজ সেই সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী
Modi-TATA: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব তুমুল বিক্ষোভ হওয়ার পর সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রতন টাটা। ২০০৮-এর ৩ অক্টোবর কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছিলেন ন্যানো কারখানা বাংলায় হচ্ছে না। বাংলার থেকে বিদায় নিচ্ছে টাটা। ঠিক চারদিন পর টাটা ঘোষণা করেছিলেন, ন্যানো কারখানা হচ্ছে গুজরাটে সানন্দে।

২০০৬ সালের ১৮ মে। মধ্যবিত্তকে স্বপ্ন দেখিয়ে সিঙ্গুরে ছোট গাড়ি তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন রতন টাটা। জমি অধিগ্রহণ শুরুও হয়। তারপর সেই স্বপ্ন মিশে যায় মাটিতেই। পড়ে থাকে কিছু স্ট্রাকচার, কিছু পাইপ। চলে যান টাটা। শিল্প হয়নি, তবে সেই ঘটনা বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। বাকি ইতিহাসটা সবারই জানা। বাংলা ছেড়ে যাওয়া টাটাকে জায়গা করে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপর ‘জীবন গিয়েছে চলে কুড়ি-কুড়ি বছরের পার’। ৬-এর পর ২৬। রতন টাটা আর নেই। বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গুজরাটের সেই মুখ্যমন্ত্রী আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই নরেন্দ্র মোদীই আজ পা রাখছেন সিঙ্গুরে। বিতর্কিত সেই এলাকায় দাঁড়িয়েই জনসভা করবেন তিনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের জন্য হুগলির এই এলাকাকেই বেছে নিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব তুমুল বিক্ষোভ হওয়ার পর সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রতন টাটা। ২০০৮-এর ৩ অক্টোবর কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছিলেন ন্যানো কারখানা বাংলায় হচ্ছে না। বাংলার থেকে বিদায় নিচ্ছে টাটা। ঠিক চারদিন পর টাটা ঘোষণা করেছিলেন, ন্যানো কারখানা হচ্ছে গুজরাটে সানন্দে। ২০১০-এই সেই প্লান্টে তৈরি হয় প্রথম গাড়ি। সেদিন গুজরাট সরকার, তথা ‘মুখ্যমন্ত্রী মোদী’র প্রশংসা করেছিলেন রতন টাটা।
পরে মোদী বলেছিলেন, কীভাবে মাত্র ১ টাকার এসএমএস সেদিন এক শিল্পোদ্যোগকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ২০১০ সালে ন্যানো কারখানা উদ্বোধন করার সময় মোদী বলেছিলেন, কলকাতায় যখন রতন টাটা প্রেস মিট করছিলেন, তখন তাঁকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাতে শুধু লেখা ছিল একটাই শব্দ, Welcome। তারপর সিঙ্গুর থেকে প্রজেক্ট চলে যায় সানন্দে। মোদী বলেছিলেন, ‘একটা ১ টাকার এসএমএস কী করতে পারে দেখেছেন।’
যে জমি ছেড়ে চলে গিয়েছিল ন্যানো, সেই জমিতেই পা রাখবেন নরেন্দ্র মোদী। ভোটের আগে যে বাংলাকে শিল্প-বার্তা দেবেন, তা অনুমান করাই যায়। তবে তাঁর মুখে কি কোনও নতুন কথা শোনা যাবে? কোনও নতুন আশার আলো দেখবে ওরা? সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে সিঙ্গুরবাসী।
উল্লেখ্য, সিঙ্গুরের কৃষকরাই মোদীর সভার জন্য জমি দিয়েছেন। বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন, বিজেপি সরকার এলে এখানে টাটা ফিরবে। তাই মোদীর সিঙ্গুরের সভায় নজর থাকবে সব মহলের।
