হাসপাতালের জুলুমবাজি শেষ, এই কাজ করলে বিল মেটাতে বাধ্য নয় রোগীর পরিবার! জারি নির্দেশ
Hospital Ventilation: বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন, অস্বচ্ছ বিলিং কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রোগীর জীবনরক্ষা করাই লক্ষ্য, ভেন্টিলেটর যেন ব্যবসার হাতিয়ার না হয়। ভেন্টিলেটর একটা জীবনদায়ী ব্যবস্থা হলেও তার ব্যবহার হতে হবে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কারণে।

নয়া দিল্লি: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সার খরচ নিয়ে সকলেই নাজেহাল। গজ-তুলো-সিরিঞ্জ-স্যালাইনের ভুয়ো খরচ দেখিয়ে বেশকয়েক হাজার টাকা বিল বাড়িয়ে দেওয়া তো আছেই। তবে বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসমস্ত ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করায় তেমন একটা বিশ্বাসী নয়। তাদের একদম মারি তো গন্ডার, লুটি তো ভান্ডার। কী সেটা? ভেন্টিলেশন। বিল বেড়ে যায় লক্ষ লক্ষ টাকা। এটা বন্ধ করার জন্যই উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ব্যবহারে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস। বলা হয়েছে, ভেন্টিলেটর ব্যবহারে অযথা দীর্ঘ চিকিৎসা, খরচ সংক্রান্ত অভিযোগ, রোগীর পরিবারকে অন্ধকারে রাখা-এসব বিষয় মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে ডুজ অ্যান্ড ডোন্টসের তালিকা।
বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন, অস্বচ্ছ বিলিং কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রোগীর জীবনরক্ষা করাই লক্ষ্য, ভেন্টিলেটর যেন ব্যবসার হাতিয়ার না হয়। ভেন্টিলেটর একটা জীবনদায়ী ব্যবস্থা হলেও তার ব্যবহার হতে হবে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কারণে। রেসপিরেটরি ফেলিয়র, স্নায়ুর সমস্যা, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, ট্রমা বা ড্রাগ টক্সিসিটির মতো অবস্থাতেই ভেন্টিলেটর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর মূল কথা যেটা, তা হল রোগীর পরিবারকে কিছু না জানিয়ে ভেন্টিলেটর চালু করে দিয়ে বিলিং আরম্ভ করে দেওয়া যাবে না। সব রোগীর জন্য তৈরি করতে হবে ভেন্টিলেশন অ্যানালিসিস অ্যান্ড কন্ডিশন রিপোর্ট। রিপোর্টে থাকবে রোগীর অবস্থা, ভেন্টিলেশনে দেওয়ার কারণ, সম্ভাব্য খরচ ও মেয়াদ। ভেন্টিলেশনে দেওয়ার আগে রোগীর পরিবারকে রিপোর্ট দেখিয়ে অনুমতি নিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, ভেন্টিলেশনের মেয়াদ বাড়াতে হলে নতুন করে পরিবারের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। কেন মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে, তাও হাসপাতালকে স্পষ্টভাবে পরিবারকে জানাতে হবে। অনুমতি ছাড়াই ভেন্টিলেশন চালু করে দিলে বিল মেটাতে বাধ্য নয় রোগীর পরিবার। রোগীকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হলে পরিবারের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিত্সক বাধ্য। ভেন্টিলেশন কেয়ার বিভাগে ডাক্তারকেও রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ১৪ দিনের বেশি সময় ভেন্টিলেশনের ক্ষেত্রে অডিট, মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি রিভিউ কমিটি, হাসপাতালে গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সেলের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।
দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসতে থাকায় ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস সুজাতা চৌধুরীর আন্ডারে একটা কমিটি তৈরি করে দেয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কমিটিতে দিল্লি এইমস, সফদরজং হাসপাতাল, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ, রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতাল -সহ দেশের বিভিন্ন প্রথম সারির সরকারি হাসপাতালের অ্যানাস্থেশিয়া, এমার্জেন্সি মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের প্রধানরা ছিলেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই গাইডলাইন ইস্যু করা হয়েছে।
