AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

DA মামলায় চূড়ান্ত রায় তো এসে গেল! এবার কত হাজার কোটি খসবে নবান্নর ট্যাঁক থেকে?

বিশেষত 'রিভিশন অফ্ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল' অনুসারে তারা ডিএ দিতে চায়। রাজ্যের বক্তব্য, রাজ্য ও কেন্দ্রের আর্থিক কাঠামোয় তফাৎ রয়েছে। কিন্তু আজকে সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে AICPI অনুযায়ী ডিএ দিতে হবে। কিন্তু বছরে দু'বার করে ডিএ দিতে হবে কিনা, সেটা 'ম্যান্ডেটরি'  করা হয়নি।

DA মামলায় চূড়ান্ত রায় তো এসে গেল! এবার কত হাজার কোটি খসবে নবান্নর ট্যাঁক থেকে?
কত টাকা দিতে হবে রাজ্যকে? Image Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Feb 05, 2026 | 12:43 PM
Share

নয়া দিল্লি: প্রথম ধাপ, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে। সেই বকেয়া ডিএ দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, এক্ষেত্রে ২০০৮ সাল থেকে যে এরিয়ার রয়েছে, সেটা যে কোনও মূল্যে মিটিয়ে দিতে হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অল ইন্ডিয়া প্রাইজ় ইনডেস্কে মেনে দিতে হবে। রাজ্যের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, রাজ্যের পঞ্চম বেতন কমিশন, বিশেষত ‘রিভিশন অফ্ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল’ অনুসারে তারা ডিএ দিতে চায়। রাজ্যের বক্তব্য, রাজ্য ও কেন্দ্রের আর্থিক কাঠামোয় তফাৎ রয়েছে। কিন্তু আজকে সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে AICPI অনুযায়ী ডিএ দিতে হবে। কিন্তু বছরে দু’বার করে ডিএ দিতে হবে কিনা, সেটা ‘ম্যান্ডেটরি’  করা হয়নি। ডিএ মৌলিক অধিকার কিনা, সেই বিষয়টিও বিচার্য হয়নি এদিন। 

সুপ্রিম কোর্টের কমিটিতে কারা থাকবেন, কী করবেন?

এই মামলার শুনানিতে বারবার রাজ্য সরকারের তরফে আবেদন করা হচ্ছিল, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ভাল নয়। রাজ্যের কোষাগারে টাকা নেই, সুতরাং বিপুল পরিমাণ টাকা যদি দিতে হয়, তাহলে রাজ্য তার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারবে না। রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়বে। রাজ্যের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই কমিটির মাথায় থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। তাঁর মূলত কাজ, রাজ্যের আর্থিক সঙ্কট প্রেক্ষাপট-পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা। তার নিরিখে কত শতাংশ ডিএ দেওয়া সম্ভব, বছরে দু’বার ডিএ দেওয়া সম্ভব কিনা, সেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঠিক করবেন। এই কমিটিতে কম্পট্রোলার জেনারেল  অর্থাৎ CA প্রধানও থাকবেন। বা তিনি অন্য কাউকে এই কমিটিতে নিয়োগও করতে পারেন। রয়েছেন বিচারপতি তিলোসিং চৌহান, গৌতম বাডুড়িয়া। পাশাপাশি অন্যান্য হাইকোর্টের বিচারপতিদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। ডিএ বছরে কত বার দেওয়া উচিত রয়েছে, সেটাও স্ক্রুটিনি করা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ডিএ বছরে দু’বার দেওয়া হবে কিনা, সেটা আদালত নির্ধারণ করবে না, কমিটিই ঠিক করবে। কত টাকা দিতে হবে, কমিটি দেখে রিপোর্ট আকারে দিতে হবে।

এই কমিটি রিপোর্ট দেবে ১৫ মে-র মধ্যে দিতে হবে। সেই রিপোর্টে উল্লেখও করতে হবে ৬ মার্চ কিংবা ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকার প্রত্যেক বকেয়া টাকা ধাপে ধাপে মিটিয়েছে কিনা।

আজকের রায়ের পয়েন্ট

১. ২৫ শতাংশ ডিএ এখনই রিলিজ করতে হবে রাজ্যকে। 

২. বাকি ৭৫ শতাংশের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে। তারা রাজ্য সরকারের সঙ্গে ‘মোডালিটিস ওয়ার্কআউট’ করবেন। ৬ মার্চের মধ‍্যে বাকি বকেয়া কীভাবে দিতে হবে তার রূপরেখা চূড়ান্ত করবে কমিটি।

৩. ⁠৩১ মার্চের মধ‍্যে বাকি ৭৫%শের প্রথম ইনস্টলমেন্ট দিতে হবে। 

২০০৮ সালের পর যাঁরা অবসর করেছেন, তাঁরাও ডিএ পাবেন। নির্ধারিত শতাংশের ভিত্তিতে। ২০০৮-২০১৯ সাল পর্যন্ত সমস্ত ডিএ মেটাতে হবে রাজ্যকে। 

৪. ‘রিভিশন অফ্ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল’-এর যা নিয়ম রয়েছে, তার মধ্যে AICPI  অর্থাৎ ‘অল্ ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইজ় ইনডেক্সে’র নিয়মও রয়েছে। এটাই রাজ্য সরকার মানতে চাইছিল না। মূলত ‘রিভিশন অফ্ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স’ রুলে কয়েক বছরের জন্য একটা শতাংশের কথা উল্লেখ ছিল, পরে সেটা আর উল্লেখিত ছিল না, কখন কখন দেওয়া হবে। এটাকেই ইস্যু করছিল রাজ্য। অর্থাৎ রোপা এবং এআইসিপিআই মেনে ডিএ দিতে হবে।

সূত্রের খবর, যদি ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হয়, তাহলে রাজ্যকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “যদি এই টাকা দিতে হয়, তাহলে সরকারকে বাটি হাতে রাস্তায় নামতে হবে। সরকার কোথা থেকে দেবে?”