দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষভাগে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা, রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ত্রিপুরায়

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে নিয়েই পাড়ায় পাড়ায় টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচার চালানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন একাত্ববোধ করবে, তেমনই আবার টিকাকরণের জন্য এগিয়েও আসবে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষভাগে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা, রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ত্রিপুরায়
ছবি- টুইটার

আগরতলা: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ যখন শেষের মুখে, সেই সময়ই সংক্রমণের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড হল ত্রিপুরায়। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, যা এখনও অবধি দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। তবে আশা দেখা যাচ্ছে রাজ্যের আক্রান্তের হার হ্রাসে। ৪.৪১ শতাংশ থেকে বর্তমানে রাজ্যে আক্রান্তের হার কমে এসেছে ৩.৭২ শতাংশে।

রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ত্রিপুরায় নতুন করে ৬২৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্য়ে ১৮৩ জনই পশ্চিম ত্রিপুরার বাসিন্দা। এছাড়াও খোয়াইতে ৯৪ জন, উনাকোটিতে ৮৮ জন, দক্ষিণ ত্রিপুরায় ৭০ জন, সেপাইজালায় ৫২ জন এবং ধালাই ও গোমতীতে ৪৮ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।

চলতি বছরে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখনও অবধি ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সংক্রমণের কারণে। সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে করা একটি অডিটেও জানানো হয়েছিল, ১০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে কোভিড কেয়ার সেন্টারে।

এদিকে, রাজ্যের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসাবে করোনা পরীক্ষা ও টিকাকরণে অনীহা এবং দেহে নিয়মিত অক্সিজেন লেভেল না মাপাকেই দোষারোপ করেছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। মৃত্যু হার হ্রাস পাওয়ার জন্য সামান্য় উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা পরীক্ষা, যথাযথ চিকিৎসার উপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরাও।

রাজ্যে ৪৫ উর্ধ্বদের মধ্যে টিকাকরণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ও ভীতি দূর করতে স্থানীয় ক্লাবগুলির সাহায্য নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে নিয়েই পাড়ায় পাড়ায় টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচার চালানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন একাত্ববোধ করবে, তেমনই আবার টিকাকরণের জন্য এগিয়েও আসবে।

আরও পড়ুন: ভারতকে ৮ কোটি টিকা দেবে কোভ্যাক্স, ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের