Suvendu on Anandapur Fire: আনন্দপুরকাণ্ডে শুভেন্দুর ‘ম্যান মেড’ তত্ত্ব, সরকারকে দায়ী করলেন বিরোধী দলনেতা
Anandapur Fire: শুভেন্দু লিখেছেন, "আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো নিরীহ শ্রমিকদের পরিবারগুলোর প্রতি আমি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাই। এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।"

কলকাতা: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কাটাছেড়ার শেষ নেই। কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটলেও দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এত বড় ঘটনায় হাজির হলেন না? তাঁর বদলে সেখানে পৌঁছলেন বিদ্যুত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস? এই নিয়ে প্রশ্ন চলছেই। এবার এই অগ্নিকাণ্ডে ‘ম্যান মেড ট্রাজেডি’-র তত্ত্ব খাড়া করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, এই সরকারের গাফিলতির ফল। অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন বিরোধী দলনেতা।
বিরোধী দলনেতার কথায়, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। এই সরকারের গাফিলতির ফল। পূর্ব কলকাতার জলভূমির চরিত্র বদলে ফেলা হচ্ছে। রাজ্যে কারখানা বলে কিছু নেই। বেআইনি নির্মাণ রুখতে ব্যর্থ এই সরকার।
শুভেন্দু লিখেছেন, “আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো নিরীহ শ্রমিকদের পরিবারগুলোর প্রতি আমি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাই। এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।” বিরোধী দলনেতা নিজে নন্দীগ্রামের বিধায়ক। আর এই অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও নিখোঁজের অধিকাংশই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। তিনি বলেন, “নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন অত্যন্ত তরুণ এবং তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের বড় অংশই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা।”
I express my Deepest Condolences and Heartfelt Sorrow to the families of the innocent workers who lost their lives (8 reported till now with the grim possibility of the number going up). More than 20 are reportedly missing in the horrific fire tragedy at Anandapur, with many yet… pic.twitter.com/NtjBdU8XLB
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 27, 2026
তিনি আরও বলেন, “এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দীর্ঘদিনের গাফিলতি, অযোগ্যতা এবং শাসনব্যবস্থার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার সরাসরি পরিণতি। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবের ফলেই নিয়ম-কানুন উপেক্ষিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।” তিনি আরও লেখেন, “আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় এই মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ঘটেছে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি অঞ্চলে, যেখানে বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে গত কয়েক বছরে একের পর এক অবৈধ শিল্প ইউনিট গড়ে উঠেছে। এই ইউনিটগুলি কোনও ধরনের নিয়ম-নীতি বা নিরাপত্তা মানদণ্ড না মেনেই সম্পূর্ণ অবাধে পরিচালিত হচ্ছিল।”
শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “দাহ্য পদার্থে ভর্তি তালাবদ্ধ গুদামের ভেতরে মানুষ আটকে পড়েছিলেন। সেখানে কোনও জরুরি বেরনোর পথ ছিল না, সংকীর্ণ গলির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে এবং ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। প্রশ্ন উঠছে—এটা কীভাবে সম্ভব হল? কলকাতার একেবারে উপকণ্ঠে, এত বিপজ্জনক গুদামে কীভাবে শ্রমিকদের রাত কাটাতে বাধ্য করা হল, অথচ কেউ কিছু জানল না?”
শুভেন্দুর কথায়, “৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। যাঁর বাড়ি ওই এলাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে। অথচ তিনি নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ গুদামের ভেতরে ছিল। লজ্জাজনক! প্রশ্ন তোলার বদলে তাঁর প্রশাসনের উচিত ছিল এর উত্তর দেওয়া। এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের ওপরই বর্তায়। এএমআরআই হাসপাতাল থেকে বড়বাজার, আর এবার আনন্দপুর—একটির পর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, অথচ কোনও শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, কোনও দায়ও স্বীকার করা হচ্ছে না।”
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি বারবার বলেছি, এটি পশ্চিমবঙ্গে ‘নো গভর্নমেন্ট’-এর প্রমাণ। যে সরকার অগ্নি নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করতে পারে না, বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে পারে না কিংবা দুর্যোগের সময়ে সংবেদনশীলভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।”
অপরদিকে মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, “আমি নিজে খুব স্তম্ভিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খুব স্তম্ভিত। যাঁদের জন্য এই ঘটনা ঘটেছে তাঁরা তাঁদের দায় এড়াতে পারে না। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ দোষী হলে তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে।”
