Calcutta High Court: ‘আমি আসল,ডুপ্লিকেট তৃণমূলের মধ্যে যাচ্ছি না’, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভা করা নিয়ে বলল হাইকোর্ট
বিচারপতির বক্তব্য, "তাহলে মেও রোডে কাউকে দেওয়া হবে না। আপনারা ক্যাথিড্রালে যান। ২১ জুলাইয়ের মতো অনুষ্ঠান করুন। ওরা ডোরিনাতে যাক। এখানে কোনও প্রতিযোগিতা হচ্ছে না যে কে মেয়ো রোডের কত কাছে সভা করতে পারে।" অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র বলেন, "এরা সবসময় আমার ওই লাল বেলুনটাই চাই, এমন আচরণ করে কেন?"

কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের মতো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন সভা করা নিয়েও মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী শিবিরের মধ্যে সভাস্থান নিয়ে টানাটানি চলছে। সেই মামলা উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার ছিল শুনানি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করবে ভিক্টোরিয়ার কাছে ক্যাথিড্রালে। আর ওই একই দিনে রানি রাসমণিতে ঋতপন্থীরা সভা করবে। দেড় হাজার সমর্থক নিয়ে বেলা বারোটা থেকে সভা করার নির্দেশ।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে ২৮ অগস্ট গান্ধী মূর্তির কাছে মেয়ো রোডে সভা করতে চেয়েছিলেন ঋতব্রতরা। কিন্তু,কলকাতা পুলিশ মেয়ো রোডে সভা করার অনুমতি দেয়নি। তারপরই হাইকোর্টে ছোটে ঋত শিবির।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “একসঙ্গে সভা করুন। ব্রিগ্রেডে দশ হাজারের অনুমতি দেব। পনেরো বছর আগে কী ঘটেছে সেটা এখন আর বিচার্য নয়। পরিস্থিতি বদলেছে। নিজেদের অবস্থা বুঝুন।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন মামলাকারীকে, “এটা বাধা দেওয়া হয়নি (পুলিশ অনুমতি দেয়নি সেই বিষয়ে)। নেতাজি ইন্ডোরে করতে বলা হয়েছে। অসুবিধা কোথায়?” কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “এটা সরকার বলতে পারে না। ছয় হাজার সমর্থক আসবেন। ওই একই জায়গায় এই যাবত অসংখ্য র্যালি হয়েছে মে মাসের পর থেকে।” আবার ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী বলেন, “স্ট্যটুটারি বডির সঙ্গে কোন কথা বলে জায়গা ঠিক করা হয়নি অন্য মামলাকারীর পক্ষে।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সওয়াল, ” আমি আসল,ডুপ্লিকেট তৃণমূল ইত্যাদি মধ্যে যাচ্ছি না। এই মামলা এর জন্য হয়নি যে কে আসল তাকে খুঁজতে হবে। আপনারা কি একসঙ্গে মেও রোডে অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী?” কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আইনজীবী শীর্ষণ্য সাফ জানান, “না আমরা একসঙ্গে করছি না। রানি রাসমনিতে দেওয়া হোক।”
বিচারপতির বক্তব্য, “তাহলে মেও রোডে কাউকে দেওয়া হবে না। আপনারা ক্যাথিড্রালে যান। ২১ জুলাইয়ের মতো অনুষ্ঠান করুন। ওরা ডোরিনাতে যাক। এখানে কোনও প্রতিযোগিতা হচ্ছে না যে কে মেয়ো রোডের কত কাছে সভা করতে পারে।” অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র বলেন, “এরা সবসময় আমার ওই লাল বেলুনটাই চাই, এমন আচরণ করে কেন?” ঋত শিবিরের আইনজীবী শ্রীজীব ভট্টাচার্য বলেছেন, “আমাদের ১০ হাজার সমর্থক করে দিন।” বিচারপতির নির্দেশ, “তাহলে ময়দানে চলে যান।”
