Madan Mitra: ‘সিঙ্গুর আন্দোলন বড় ঐতিহাসিক ভুল, পশ্চিমবঙ্গকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে’, বিস্ফোরক মদন মিত্র
Madan on Singur: সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে মদন বলেন, "একটা বড় ঐতিহাসিক ভুলের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে। এটা ভুল হয়েছে। করতে দেওয়া উচিত ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের ভুল ছিল। ভুল কে যে ভুল বলে স্বীকার করে সেই তো প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র।" তিনি আরও বলেন, "বিরোধিতা মানে গান্ধারির মতো ফেট্টি বেঁধে বিরোধিতা নয়। পর্যালোচনা করে বিরোধিতা করা প্রয়োজন।"

কলকাতা: সিঙ্গুরে (Singur) কি শিল্প হবে? এই নিয়ে বৃহস্পতিবারই বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে সিঙ্গুরে কি তাহলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি শিল্পই হবে? এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে। এই আবহে এবার সিঙ্গুর নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর কথায়, সিঙ্গুর আন্দোলন একটা বড় ঐতিহাসিক ভুল ছিল। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, সিঙ্গুরে অশোক লেল্যান্ড এলে খুব ভালো হবে।
কী বলেছেন মদন মিত্র?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে মদন মিত্র বলেন, “ভাতা দিয়ে, খয়েরতি দিয়ে কোনও সরকার চলতে পারে না। সরকারে রাজস্ব আনতে হয়। বিনিয়োগ করতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আল্ট্রা বাম ও বাম, তাঁরা এমনভাবে বুঝিয়েছিল যে ভারতবর্ষের ইতিহাসে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর পরই আপনার নাম থাকবে। কোনও না কোনও মানুষের সাফল্য হয়। পরবর্তীকালে প্রকৃত মূল্যায়ণ হলে সেই সাফল্য পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সিঙ্গুর আন্দোলন জনগণের নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্ষেতি বাড়ির লোকেদের স্বপক্ষে একটা অন্তত প্রগতিশীল আন্দোলন নয়, বরং ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছে। আমার মনে হচ্ছে এই ব্যাপারটা নতুন করে ভাবা দরকার।”
সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে কী বললেন মদন?
এরপরই সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে মদন বলেন, “একটা বড় ঐতিহাসিক ভুলের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে। এটা ভুল হয়েছে। শিল্প করতে দেওয়া উচিত ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের ভুল ছিল। ভুল কে যে ভুল বলে স্বীকার করে সেই তো প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র।” তিনি আরও বলেন, “বিরোধিতা মানে গান্ধারির মতো ফেট্টি বেঁধে বিরোধিতা নয়। পর্যালোচনা করে বিরোধিতা। ভবিষ্যত প্রমাণ করবে যদি অশোক লেল্যান্ডের কারখানা হয়ে যায়, তার পাশাপাশি মেদিনীপুরের শালবনি থেকে শুরু করে পরপর কারখানা হতে থাকে, যদি বাংলার অগ্রগতির জন্য ইন্ডাস্ট্রি গড়ে চাকরি হয়, টাকার পরিবর্তে চাকরি নয়, অযোগ্যদের চাকরি নয়, সত্যিকারের যোগ্যরা চাকরি পান, আমার মনে হয় নতুন করে তৃণমূল কর্মীরা ভাববে।”
উল্লেখ্য, সিঙ্গুরের শিল্পায়ন বিতর্ক বাংলার রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হুগলির সিঙ্গুরে প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগে রাজ্যে ছোট গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়। কিন্তু কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন একাংশের কৃষক। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনশনও শুরু করেন তিনি। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তা প্রত্যাহার করেন মমতা।
২০০৮ সালের অগস্টে সিঙ্গুরে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতির জেরে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টাটা মোটরস কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয়। অবশেষে ৩ অক্টোবর ২০০৮ সালে সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রতন টাটা।
