মুুকুল আর ‘গদ্দার’ না, ক্লিনচিটের কারণ ব্যাখ্যা করলেন মমতা

আরও কয়েকটি বিষয় তিনি স্পষ্ট করেছেন। তা হল- আগামী সময় আরও অনেকে ফিরবেন। কারা ফিরতে পারেন, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন নেত্রী।

মুুকুল আর 'গদ্দার' না, ক্লিনচিটের কারণ ব্যাখ্যা করলেন মমতা
ছবি- ফেসবুক

কলকাতা: ‘গদ্দারের’ সংজ্ঞা কি পাল্টে ফেলল তৃণমূল? একুশে ভোট প্রচারে দলবদলুদের উদ্দেশে গদ্দার বলে একাধিকবার আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমোকে। ভোটের পর সেই ‘দলবদলুর’ একাংশ তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করলে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন গদ্দারের কোনও জায়গা নেই তৃণমূলে। সেই তালিকায় মুকুল রায়ের যে নাম নেই, এ দিন সেটাও জানিয়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, “ভোটে গদ্দারি করেনি মুকুল”।

কিন্তু এই মমতাকেই একদিন বলতে শোনা গিয়েছিল, “যারা ‘গদ্দারি’ করেছে তাঁদের ফেরাবো না।”  মুকুল তৃণমূল ত্যাগ করার পর একাধিক সময়ে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা। একবার ত্রিপুরায় তৃণমূলের সংগঠন পতনের কারণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুকুলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এই বিশেষণে বিঁধেছিলেন তিনি। শুক্রবার সেই মুকুলকে গদ্দারি তকমা থেকে ক্লিনচিট দিলেন মমতা।

তাহলে, তৃণমূলের কাছে ‘গদ্দারের’ সংজ্ঞা এই মুহূর্তে কী? এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতাই ব্যাখ্যা করে বলেন, “অনেকে ভোটের সময় দলের সঙ্গে খুব গদ্দারি করছে। মুকুল কিন্তু ভোটের সময় একটি কথাও বলেনি দলের বিরুদ্ধে। যারা ভোটের সময় গদ্দারি করে বিজেপির শক্তিশালী করতে গিয়েছে, তাঁদেরকে আমরা নেব না, এটা আমাদের দলের সিদ্ধান্ত।” গতকাল সৌগত রায় ঘরে ফিরতে চাওয়া নেতাদের নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ করেছিলেন। যারা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন, তাঁদের দলে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। কিন্তু যারা দল পরিবর্তনের পরও তৃণমূল এবং নেত্রীর প্রতি সফট (নরম) থেকেছেন, তাঁদের জন্য দরজা খোলা।

আরও পড়ুন: ‘বিজেপিতে থাকা যায় না, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল’, ‘নরমপন্থী’ মুকুলকে পেয়ে বললেন মমতা

এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এ দিন মমতাও বলেন, “মনে রাখবেন চরমপন্থী এবং নরমপন্থী আছে। কিছু লোক আছে যারা হয়তো মুকুলের সঙ্গে গিয়েছে। মুকুল চলে এলে তাঁরাও নিশ্চই চলে আসতে চাইবে। সেটার ব্যপারে দল সিদ্ধান্ত নেবে।” কিন্তু এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “যারা গদ্দারি করে নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছেন, তাঁদের আমরা নেব না।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুকুলের মতোই এই নরমপন্থীদের তালিকায় থাকতে পারেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, সোনালী গুহ-সহ অন্যান্যরা। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বা অর্জুন সিং; এদের মতো দলবদলুদের জন্য কড়া অবস্থান নেবে তৃণমূল।

আরও পড়ুন: ‘চাটনি’ থেকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি, কেমন কাটল মুকুলের ৪ বছরের পদ্মাবাস?