New Alipore College: ‘স্তম্ভ’ সংবাদপত্রই, ডিজিটাল-চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মশালা নিউ আলিপুর কলেজে
New Alipore College Newspaper Design Workshop: যোগ দিয়েছিলেন সংবাদ প্রতিদিনের সিনিয়র সাব-এডিটর অনিন্দ্য সিনহা চৌধুরী। তিনি ‘কোয়ার্ক এক্সপ্রেস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংবাদপত্র তৈরির ব্যবহারিক ও প্রয়োগিক বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি এবং সংবাদের গুরুত্ব নির্বিশেষে তার সংস্থাপন বা প্লেসমেন্টের বিষয়টি বোঝানোর দায়িত্ব নেন এই সময়ের সিনিয়র সাব-এডিটর ও রিপোর্টার সায়ন কর্মকার।

কলকাতা: সাংবাদিকতা প্রবেশ করেছে এক নয়া যুগে। বেড়েছে ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতা, চ্য়ালেঞ্জের মুখে পড়েছে সংবাদপত্র। তৈরি হয়েছে টিকে থাকার লড়াই। কিন্তু হিকির হাত ধরে ভারতের বুকে শুরু হওয়া এই সংবাদপত্রের যাত্রা কি ডিজিটাল হাওয়ায় থমকে যাবে? পিছিয়ে পড়বে? তা হয়তো সম্ভব নয়। যুগ বদলেছে, বদলেছে সময়, বদলেছে সংবাদপত্র। শুধু হাতে নয়, ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতাকে মাথায় রেখে এসেছে ই-পেপার। সুতরাং, সংবাদপত্র মরেনি, মরবেও না — এটা বলাও ভুল হবে না।
একদিকে যেমন চাহিদা রয়েছে নতুন যুগের ডিজিটাল সাংবাদিকতার, তেমনই চাহিদা রয়েছে সংবাদপত্রেরও। খবর লেখা, খবর বোঝা কিংবা খবর খোঁজা — এই সবের বাইরেও সংবাদপত্রে টিকে থাকার জন্য আরও একটি বিষয়ে দক্ষতা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। তা হল সংবাদপত্র সাজাতে জানা। কোন খবর, কোন জায়গায় বসবে, প্রথম পাতায় কোথায় বসবে বিজ্ঞাপন, কতগুলি ডেকজুড়ে থাকবে হেডলাইন। গোটা বিষয়টাই যেন একটা শিল্প।
কলকাতার বুকে এই শিল্প নিয়ে চর্চা হল নিউ আলিপুর কলেজে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে আয়োজন হয়েছিল বিশেষ ওয়ার্কশপের। সংবাদপত্রের নকশা, লে-আউট এবং ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে সংবাদপত্র কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে — সেই সব নিয়েই আলোচনা হল কর্মশালায়।
এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয়ের নয়া CCF পাঠ্যক্রমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে নিউ আলিপুর কলেজের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অমর্ত্য সাহা বলেন, ‘এই কর্মশালায় আলোচিত প্রতিটি বিষয় সাংবাদিকতার পড়ুয়াদের চার বছরের পাঠক্রমেরও অংশ। যা দিনশেষে তাঁদের মিডিয়া-বাজারের জন্য দক্ষ করে তুলবে। আর এটা মনে রাখা প্রয়োজন, দাপুটে ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে দাঁড়িয়েও সংবাদপত্র এখনও সাংবাদিকতার শিরদাঁড়া।’
বিভাগীয় প্রধানের মতোই এক মত ব্য়ক্ত করেছেন নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ তথা গবেষক জয়দীপ সারাঙ্গী। তাঁর মতে, ‘জনমত তৈরির ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের ভূমিকা আজও অনস্বীকার্য। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতেও সংবাদপত্রের কোনও বিকল্প নেই।’ শুধুই অধ্যাপকরা নন, এই কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন খ্য়াতনামা সাংবাদিকরাও।
যোগ দিয়েছিলেন সংবাদ প্রতিদিনের সিনিয়র সাব-এডিটর অনিন্দ্য সিনহা চৌধুরী। তিনি ‘কোয়ার্ক এক্সপ্রেস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংবাদপত্র তৈরির ব্যবহারিক ও প্রয়োগিক বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি এবং সংবাদের গুরুত্ব নির্বিশেষে তার সংস্থাপন বা প্লেসমেন্টের বিষয়টি বোঝানোর দায়িত্ব নেন এই সময়ের সিনিয়র সাব-এডিটর ও রিপোর্টার সায়ন কর্মকার। পাশাপাশি, কর্মশালায় ইনডিজাইনের ব্য়বহারও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়াও এই কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন টাইমস অব ইন্ডিয়ার অ্যাসিস্ট্য়ান্ট নিউজ এডিটর সম্বুদ্ধ চক্রবর্তী। জাতীয় এবং স্থানীয় সংবাদের নিরিখে পাতাভিত্তিক বিভাগ ও ডিজাইনের প্রসঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। আর ফিল্ড রিপোর্টিং ও তার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় মিলেনিয়াম পোস্ট-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সৌমিত্র নন্দীকে। সব মিলিয়ে এই কর্মশালা হয়ে উঠেছিল সাংবাদিকদের হাট।
